ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্সের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ইংলিশ ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের আচরণ এবং সাধারণ মানুষের নজরদারি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ডারহামের জয়ের পর গত উইকএন্ডে এই ঘটনা ঘটে। মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ডার্বিশায়ার পুলিশ ৩০োর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে, যিনি ক্রিকেটার ব্রাইডন কার্স বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কার্সকে আপাতত টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ক্রিকেট রেগুলেটরের তদন্তাধীন রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কার্সকে হাতকড়া পরা অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এই ভিডিওটি রবিবার দুপুরের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্য টেলিগ্রাফের টিকটক অ্যাকাউন্টে এর ভিউ প্রায় ৬ লাখে পৌঁছায়। ভিডিওতে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকসকেও দেখা যায়, যিনি পরিস্থিতি দেখে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান। অন্য সতীর্থ ম্যাথু পটস অবশ্য কার্সকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছিলেন। লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দুই দিন আগে মঙ্গলবার জো রুট এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন। অথচ এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই মধ্যরাতের কারফিউ তুলে নিয়ে দলের খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে ‘পরিপক্ব প্রাপ্তবয়স্কদের’ মতো আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন অধিনায়ক।
ইংলিশ ক্রিকেটারদের জন্য মাঠের বাইরের এমন বিতর্ক অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে অ্যাশেজ সিরিজের সময় বেন ডাকেটের মদ্যপ অবস্থার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, যা নিয়ে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ডিরেক্টর রব কি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া চলতি গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পর স্টোকস এবং গাস আটকিনসনের এক নৈশকালীন আউটের ঘটনায় ইসিবির একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সারাসেন্স অ্যাকাডেমির এক রাগবি খেলোয়াড়ের আঘাতে আহত হন। তবে রেক্স রুমসের কঠোর ছবি ও ভিডিও ধারণ নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই ঘটনার কোনো ফুটেজ সামনে আসেনি।
অতীতে ২০১৭ সালে ব্রিস্টলে মারামারির ঘটনায় বেন স্টোকস এবং অ্যালেক্স হেলসের নাম জড়ায়, যা এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে সামনে এসেছিল। পরবর্তীতে স্টোকস আদালত থেকে খালাস পেলেও ওই ঘটনার পর ২০১৭-১৮ অ্যাশেজ চলাকালীন ক্রিকেটারদের জন্য মধ্যরাতের কারফিউ জারি করা হয়েছিল। এছাড়া আমস্টারডামে জস বাটলারের ব্যাচেলর পার্টিতে ইয়ন মর্গান, স্টিভেন ফিন এবং জ্যাক লিচের আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০২২ সালে স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে প্রথম সিরিজ জয়ের পর নটিংহামের একটি টেকঅ্যাওয়েতে ক্রিকেটারদের কাবাব-বার্গার খাওয়ার ভিডিও ভক্তদের কাছে ইতিবাচক মনে হলেও, কার্সের ভোর ৪টার এই ঘটনা খেলোয়াড়দের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
পেশাদার ক্রিকেটারদের সামাজিক আচরণ এবং ডিজিটাল মিডিয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে ক্রিকেট রেগুলেটর এবং প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিসিএ) নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমান স্মার্টফোনের যুগে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের যেকোনো অসতর্ক মুহূর্ত এখন সাধারণ মানুষের ক্যামেরায় বন্দি হয়ে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতির জন্য খেলোয়াড়দের নিজেদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

