নেদারল্যান্ডসের একটি আদালত শুক্রবার ৬৬ বছর বয়সী এক রুয়ান্ডান নাগরিককে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। দেশটির দ্য হেগ ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক লিখিত বিবৃতিতে এই সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদালতের তথ্যমতে, ওই ব্যক্তি রুয়ান্ডার দুটি প্রধানত তুতসি সম্প্রদায়ের বসতিতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে আশ্রয় নেওয়া তুতসিদের ভিড়ের মধ্যে তিনি হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিলেন।
আদালত তাদের রায়ে বলেছে, অভিযুক্তের এই কর্মকাণ্ড মানব মর্যাদা এবং জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। ভুক্তভোগী এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি ঘটে যাওয়া অপরিসীম কষ্টের কথা বিবেচনায় নিয়ে কেবল যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় হুতু চরমপন্থীদের পরিকল্পিত এক গণহত্যায় আট লাখেরও বেশি তুতসি এবং মধ্যপন্থী হুতু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করা হয়। গণহত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি রুয়ান্ডা থেকে পালিয়ে নেদারল্যান্ডসে এসে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।
এই রায়টি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা এক তদন্ত প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটাল। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ এবং একজন তদন্তকারী বিচারক রুয়ান্ডাসহ বিভিন্ন স্থানে ৩০ জনেরও বেশি সাক্ষীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। মামলার শুনানিতে এ বছর নয়জন ভুক্তভোগী বা তাদের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জাতিসংঘের একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণহত্যার মূল হোতাদের বিচার ও দণ্ড প্রদান করেছিল, যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

