নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পাশে আমতলায় আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন ও এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক এই কর্মসূচির আয়োজন করে, যেখানে নেপালি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
নেপালি শিক্ষার্থীরা তাদের দেশের এই চরম দুর্দিনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান। ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী জারুরি পাচাই বলেন, তার জন্মভূমিতে এখন অগণিত মানুষ আশ্রয়হীন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি কেবল সহানুভূতির চেয়ে বাস্তব সহায়তার ওপর জোর দিয়ে অনুদান তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন। একই অনুষদের শিক্ষার্থী দিবাকাস কাফলে নেপালিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাকৃবি ও ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে সহায়তার আহ্বান জানান। আরেক শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল গুরুঙ জানান, তারা বাংলাদেশে অবস্থান করেও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে সহায়তার চেষ্টা করছেন এবং তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, গভীর শোকের এই সময়ে বাকৃবি পরিবার নেপালের পাশে রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারও ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সম্ভাব্য সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার নিশ্চিত করেন যে, যদিও কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবুও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নেপালি শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে সবসময় তাদের পাশে থাকবে।

