যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ৬০টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ শতাংশের জোগান দেয়। শুক্রবার ভোর ১২টা ১ মিনিট থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হচ্ছে, ঠিক যে সময়ে এর আগের সাময়িক ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বৃহস্পতিবার এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং এটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়। তিনি আরও বলেন, এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই নীতি অনুসরণ করার।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাময়িক শুল্ক আরোপের পথে হেঁটেছিলেন। তবে এবার তিনি ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই দীর্ঘমেয়াদী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আইন প্রেসিডেন্টকে এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে আমদানি শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়, যারা অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক বা অন্যায্য বাণিজ্য চর্চায় লিপ্ত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনকে লক্ষ্য করে একই আইনের অধীনে বড় আকারের শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা আইনি চ্যালেঞ্জেও টিকে গিয়েছিল। বর্তমানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে বাধ্যতামূলক শ্রম দূর করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। বাণিজ্য প্রতিনিধি গ্রিয়ারের ভাষ্যমতে, এই নতুন পদক্ষেপটি মূলত সেই আহ্বানেরই একটি সরাসরি প্রতিক্রিয়া।

