৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সিবিএস নিউজের 'ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান' অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ অভিবাসন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিয়েভের পশ্চিমে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সম্প্রতি ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহর সফর করে আসা ব্লুমেনথাল জানান, পুতিন কেবল শক্তিই বোঝেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থার জন্য ইউক্রেনের আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দীর্ঘপাল্লার হিমার্স (HIMARS) আর্টিলারি এবং স্টারলিংক প্রযুক্তি প্রয়োজন।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের মস্কো সফর প্রসঙ্গে ব্লুমেনথাল মন্তব্য করেন যে, কেবল কথার মাধ্যমে পুতিনকে নিবৃত্ত করা সম্ভব নয়। তিনি রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলার লক্ষ্যে রুশ তেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দেন। তার দাবি, রাশিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে ১২৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি ও ৫ শতাংশ জিডিপি সংকটের মুখে রয়েছে। সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা বিলটি রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের অর্থায়ন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে অন্তত ৭৬,০০০ সৈন্যের একটি ন্যূনতম সীমা বজায় রাখা জরুরি।
কানেকটিকাটের বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়েও সিনেটর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ড্যানবেরি, ব্রিজপোর্ট এবং স্ট্যামফোর্ড শহরে আগাম নোটিশ ছাড়াই আইসিই (ICE) পরিচালিত অভিযানে প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে। ব্লুমেনথালের মতে, আটককৃতদের মধ্যে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তির সংখ্যা খুবই কম এবং অনেকেরই বৈধ আইনি মর্যাদা রয়েছে। তিনি এই অভিযানকে নিষ্ঠুর ও অমানবিক বলে আখ্যায়িত করে বলেন, প্রশাসন কেবল ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানোর জন্যই এটি করছে।
এছাড়া, মেটা কোম্পানির ১৭ বিলিয়ন ডলারের শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত সেটলমেন্টের বিষয়েও ব্লুমেনথাল তার মতামত দেন। তিনি একে ইতিবাচক পদক্ষেপ বললেও এটিকে অসম্পূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এটি কেবল ৩টি প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মধ্যে মেটাকে কভার করে, যেখানে ইউটিউব ও টিকটকসহ অন্তত ১০টি ভিন্ন ফিচার ও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে অন্তর্ভুক্ত করে 'কিডস অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট' পাস করা এখন সময়ের দাবি।

