স্কটিশ গ্রিনস সোমবার স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তাদের আসন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। স্কটিশ গ্রিনসের এমএসপি প্যাট্রিক হারভি দ্য ন্যাশনাল পত্রিকাকে বলেছেন, সরকারি কর্মসূচিটি পরিবর্তনের মুহূর্ত হওয়া উচিত। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন বন্ধে স্কটল্যান্ডের সহায়তা বন্ধ করার জন্য একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির দাবি জানিয়েছেন।
এর আগেও স্কটিশ গ্রিনস ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনির কাছে বারবার দাবি জানিয়েছে যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে জড়িত বলে যে কোম্পানিগুলোকে চিহ্নিত করেছেন, তাদের সাথে স্কটল্যান্ডের সব চুক্তি বাতিল করতে হবে। গ্রিনস নেতারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ফিলিস্তিনপন্থী বয়কট, ডিভেস্টমেন্ট ও স্যাংশনস (বিডিএস) আন্দোলনকে সমর্থনের জন্য আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তারা মার্গারেট থ্যাচারের সময়কার একটি ব্রিটিশ আইন বাতিলেরও আহ্বান জানিয়েছেন, যা ভৌগোলিক উৎসের ভিত্তিতে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে।
প্যাট্রিক হারভি অভিযোগ করেন যে, স্কটিশ সরকার কেবল কথায় প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এই ইস্যুতে অর্থবহ পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ নেই। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো কোম্পানি বর্ণবাদ ও গণহত্যার মাধ্যমে লাভবান হয়, তবে স্কটিশ সরকারের উচিত তাদের সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে নিশ্চিত করা যে তারা স্কটল্যান্ডের সরকারি অর্থ থেকেও যেন লাভবান না হতে পারে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের শুরুর দিকে স্কটিশ মন্ত্রীরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য যে নির্দেশনা জারি করেছিলেন, তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হারভি বলেন, সরকার তখন স্পষ্ট করেছিল যে বেসরকারি খাতের দায়িত্ব রয়েছে সাড়া দেওয়ার। তিনি বলেন, স্কটিশ সরকার যখন ইচ্ছা করে তখন কাজ করতে পারে, আর ফিলিস্তিনিরা এর চেয়ে কম কিছু পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনি আরও যোগ করেন, কেবল নামমাত্র বয়কট দিয়ে কাজ হবে না এবং সংসদ কোনো ফাঁপা প্রতিশ্রুতির জন্য ভোট দেয়নি। এক বছর পার হয়ে গেছে, এখন সরকারের কাজ করার সময়।
এদিকে, স্কটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গাজায় শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য স্কটিশ সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং তারা প্রথম সারির সরকারগুলোর মধ্যে অন্যতম যারা যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছে। মুখপাত্র আরও দাবি করেন, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমাতে এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের হাতে থাকা সবচেয়ে সরাসরি ও কার্যকর পদক্ষেপগুলো তারা গ্রহণ করেছেন।

