বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিপিএল আয়োজন নিয়ে খেলোয়াড়দের অনিশ্চয়তা নিরসন করা। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আজ ১ সেপ্টেম্বর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সদস্যদের সাথে আলোচনায় বসছেন তামিম। এর আগে ৩০ আগস্ট দুই পক্ষের আগের বৈঠকে কোনো সুরাহা না হওয়ায় এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিপিএল আয়োজন না করার ঘোষণার পর থেকেই ক্রিকেটারদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিপিএল স্থানীয় ক্রিকেটারদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। যদিও কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি বিপিএলের কাঠামোগত সমস্যা দূর করার জন্য অপেক্ষা করতে রাজি হয়েছে, তবে বেশিরভাগ জাতীয় ক্রিকেটারই বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে অখুশি। ক্রিকেটাররা বিপিএলের পরিবর্তে একটি বিকল্প টুর্নামেন্টের দাবি জানালেও গত বৈঠকে তা গৃহীত হয়নি।
বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের এনসিএল টি-টোয়েন্টি খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং বিপিএল না হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে শীর্ষ ক্রিকেটাররা এই ম্যাচ ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই অতিরিক্ত অর্থ বিপিএল থেকে পাওয়া আয়ের তুলনায় খুবই সামান্য। বিপিএলের একজন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটার প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় করেন, যেখানে এ-গ্রেড খেলোয়াড়রা এর অর্ধেক আয় করেন। এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ ফি বাড়লেও তা বিপিএল থেকে প্রাপ্ত আয়ের মাত্র ২০ শতাংশ হতে পারে বলে ক্রিকেটাররা মনে করছেন।
তামিম ইকবালের যুক্তি হলো, সঠিক কাঠামো ছাড়া বিপিএলকে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে ক্রিকেটাররা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশি চিন্তিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রিকেটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, 'আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক ত্যাগ স্বীকার করছি, কিন্তু বর্তমানের আর্থিক ক্ষতি কে পূরণ করবে? সময়ের সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়, তাই এমন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন যা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়কেই সুরক্ষিত করবে।'
একসময় ক্রিকেটারদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়া তামিম ইকবালের প্রতি এখন একটি অংশের খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। যদিও তামিম বারবার বলেছেন যে তিনি খেলোয়াড়দের হতাশা বোঝেন, কিন্তু ক্রিকেটাররা বর্তমান আর্থিক ক্ষতির বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সাথে একমত হতে পারছেন না। তামিমের নেতৃত্বগুণের ওপরই এখন নির্ভর করছে ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ডের এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। যদি এই সম্পর্কে ফাটল ধরে, তবে তা তামিমের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

