আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণাকে 'গভীরভাবে দুঃখজনক' বলে নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে যে, তারা আদালতের স্বাধীনতা এবং এর কার্যক্রম সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইইউ জানিয়েছে, রোম স্ট্যাটিউটের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সাথে মিলে তারা আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করবে। যেহেতু নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে আরও ছয় মাস সময় বাকি আছে, তাই ইইউ মনে করে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার এখনো সুযোগ রয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। ডেনমার্ক, সুইডেন, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস আদালতের স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের সাথে গভীরভাবে দ্বিমত পোষণ করে, কারণ এটি আদালতের কার্যক্রম এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলবে।
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড জানিয়েছেন, স্টকহোম যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে দুঃখিত এবং তারা আইসিসি’র জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচারের ভূমিকার পাশে আছে। অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিয়াতে মেইনল-রাইজিঙ্গার এই নিষেধাজ্ঞাকে 'উত্তেজনার আরেকটি ধাপ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি আদালত গঠনকারী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। পর্তুগালও এই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার এবং দায়মুক্তির বিরুদ্ধে লড়াইকে দুর্বল করে দেয়।
এদিকে, আইসিসি এই নিষেধাজ্ঞাকে 'আইনের শাসনের ওপর আক্রমণ' হিসেবে অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি তার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা জোর দিয়ে বলেছেন যে, টেকসই শান্তির জন্য জবাবদিহিতা প্রয়োজন এবং ইইউ আইসিসি’র সুরক্ষায় রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। বেলজিয়াম এই আদালত ও এর কর্মীদের সুরক্ষার জন্য ইইউ ব্লকিং স্ট্যাটিউট সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছে।
নেদারল্যান্ডস এই নিষেধাজ্ঞাকে একটি 'অনাকাঙ্ক্ষিত নতুন উত্তেজনা' হিসেবে উল্লেখ করেছে। উল্লেখ্য যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি আইসিসি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকানদের বিচার করার সুযোগ দেবেন না এবং আদালত যদি তার কার্যক্রম বন্ধ না করে তবে তিনি আইসিসি’র সমাপ্তি ঘটানোর হুমকিও দিয়েছেন।

