যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১ মার্চ কুয়েতের একটি ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টার এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ৭ সেনা নিহত হন। এ ছাড়া জর্ডানে নিহত ৩ জন ছাড়া বাকিদের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত বা বিস্ফোরক ধ্বংসের মতো ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইতোমধ্যে টানা ১৩ দিন ধরে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সেনাবাহিনী সম্প্রতি জর্ডানের প্রিন্স হাসান ও কিং ফয়সাল ঘাঁটিতে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রস্তুতকারী সাইট ও হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ইরানি সামরিক অবকাঠামো ও ড্রোন স্টোর লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। পেন্টাগন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না দিলেও বিশ্লেষকরা একে ওয়াশিংটনের জন্য এক নির্মম বাস্তবতার স্মারক হিসেবে দেখছেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ'-এর সামরিক বিশ্লেষণ পরিচালক জেনোফার কাভানাঘ জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বেশ শক্তিশালী এবং তারা ধারণার চেয়েও দ্রুত পরিস্থিতি মানিয়ে নিচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তাদের হামলাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত হচ্ছে। পেন্টাগন দাবি করেছিল যে ইরানের সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়েছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাধ্যের মধ্যে থাকা স্থায়ী ও উন্মুক্ত ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। কিং'স কলেজ লন্ডনের শিক্ষক অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ উল্লেখ করেন, এসব ঘাঁটির অবকাঠামো বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা সহ্য করার মতো নয়। গত ৮ জুলাই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রায় ৫০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং ২২০টি সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাথে সশস্ত্র ড্রোনের বহুমুখী ব্যবহার করছে। মূল অস্ত্রের সঙ্গে ডিকয় বা ভুয়া সংকেত ব্যবহার করায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া ইরানের অস্ত্র তৈরির খরচ অনেক কম হওয়ায় তারা অর্থনৈতিকভাবেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সিএসআইএস-এর মোনা ইয়াকুবিয়ান জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার তীব্রতা ও দৃঢ়তা বেড়েছে।

পেন্টাগনের দাবি ও বাস্তবতার ব্যবধান নিয়ে মার্কিন সিনেটে প্রশ্ন তুলেছেন সিনেটর জেন ওসফ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করলেও স্বীকার করেন যে, তাদের গুলি ছোড়ার সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জেসন ক্যাম্পবেল মনে করেন, মার্কিন নেতৃত্ব ইরানের সামরিক ক্ষয়প্রাপ্তির তথ্য বাড়িয়ে বলছে, যা জর্ডানের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে ব্যাহত করাই ইরানের বর্তমান মূল লক্ষ্য।