দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে একটি রাগবি ম্যাচকে ঘিরে এয়ারলিংকের দুটি বিমানের দুঃসাহসী ফ্লাইপাস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ৫০ হাজারেরও বেশি দর্শকপূর্ণ ডিএইচএল স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে বিমান দুটি অত্যন্ত কম উচ্চতায় উড়ে যায়, যার ভিডিও ফুটেজ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচের আগে এই ফ্লাইপাস্টের সময় ধোঁয়া নির্গত করা হয়। অনেকে এই কৌশলকে 'বেপরোয়া' বলে সমালোচনা করলেও, অনেক দক্ষিণ আফ্রিকান পাইলটদের এই দক্ষতা ও নির্ভুলতাকে জাতীয় গর্ব হিসেবে দেখছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেটন ম্যাকেঞ্জি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, 'এটা সবারই জানা যে আমাদের পাইলটরা বিশ্বের সেরা। এটি ছিল দর্শনীয়।'
এয়ারলিংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ফ্লাইপাস্টটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সমর্থন ছিল। এয়ারলাইনটি জোর দিয়ে বলেছে, ফ্লাইপাস্টটি অনুমোদিত ও পরীক্ষিত নিরাপত্তা উচ্চতা এবং গতিসীমা মেনেই পরিচালিত হয়েছে। প্রতিটি বিমানে তিনজন সিনিয়র ক্যাপ্টেন ছিলেন, যারা কমান্ডার, কো-পাইলট এবং নিরাপত্তা বা প্রযুক্তিগত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লিড বা সামনের বিমানটি স্টেডিয়ামের ছাদের ৫০ ফুটেরও (প্রায় ১৫ মিটার) কম উচ্চতা দিয়ে অতিক্রম করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বড় ম্যাচের আগে এমন নিচু উচ্চতায় ফ্লাইপাস্টের ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৫ সালের রাগবি বিশ্বকাপ ফাইনালের সময়। সেই সময় জোহানেসবার্গের এলিস পার্ক স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে সাউথ আফ্রিকান এয়ারওয়েজের একটি জেট উড়ে গিয়েছিল। সেই ম্যাচটি নেলসন ম্যান্ডেলার উপস্থিতির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে অত্যন্ত প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, যা পরবর্তীতে 'ইনভিক্টাস' চলচ্চিত্রেও উঠে এসেছে।

