যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পর অ্যান্ডি বার্নহাম তার প্রথম আন্তর্জাতিক অতিথি হিসেবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এই সাক্ষাৎ দুই দেশের মধ্যকার দৃঢ় সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট। সোমবারের এই সফরের প্রাক্কালে বার্নহাম ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের অটল সমর্থন বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সফরের অংশ হিসেবে দুই নেতা একটি নৌঘাঁটি পরিদর্শন করবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম যুক্তরাজ্যের নতুন 'স্টোন ক্লক' ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ইউক্রেনের সাথে শেয়ার করার ঘোষণা দেবেন, যাতে দেশটি এই প্রযুক্তি বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারে। বার্নহাম জানান, এই প্রযুক্তি ব্রিটিশ উদ্ভাবনের সেরা নিদর্শন এবং সম্মুখ সমরে পরীক্ষিত, যা উভয় দেশের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই ডিভাইসগুলো ট্যাবলেট কম্পিউটারের আকারের এবং ড্রোন শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে কার্যকর। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হাজার হাজার এই ডিভাইস সরবরাহ করেছে।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, ইউক্রেনে মোতায়েনের পর এই প্রযুক্তি যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হবে। এর মধ্যে রয়েছে 'প্রজেক্ট ব্রেকস্টপ', যা সাশ্রয়ী মূল্যের ক্রুজ মিসাইল তৈরির একটি সরকারি কর্মসূচি। এই সফরের সময় জেলেনস্কি এবং বার্নহাম ২০০ জনেরও বেশি ইউক্রেনীয় সামরিক সদস্যের সাথে সাক্ষাৎ করবেন, যারা গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। 'এক্সারসাইজ সি ব্রিজ' নামের এই মহড়াটি কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধ সক্ষমতা ও মাইন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে গত চার বছর ধরে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে ২৫ বিলিয়ন পাউন্ডের তহবিল সহায়তা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই বার্নহাম জেলেনস্কির সাথে ফোনালাপে তাকে দ্রুত যুক্তরাজ্য সফরের আমন্ত্রণ জানান। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রতি এই অটল সমর্থনকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখেন। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার তার শেষ কর্মদিবসে কিয়েভ সফর করেন এবং ইউক্রেনের লড়াইয়ের জন্য ২৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড (৩০০ মিলিয়ন ইউরো) নতুন সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্টারমারকে সেখানে ইউক্রেনের 'অর্ডার অফ ফ্রিডম' পদকে ভূষিত করা হয়। নেতৃত্বের পরিবর্তনের বিষয়ে উদ্বেগ থাকলেও জেলেনস্কি আশাবাদী যে, যুক্তরাজ্যের সাথে ইউক্রেনের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। তিনি বলেন, আমি আশা করি যুদ্ধের সময় বা যুদ্ধের পরে আমরা যুক্তরাজ্যের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক হারাব না। স্টারমার তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনারা হারাবেন না।

