মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি অভিযোগ করেছেন, ধনকুবের শ্রেণী বিপুল অর্থ ঢেলে নির্বাচন ও স্বাস্থ্য খাতকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য বিষয়ক মনোনীত কর্মকর্তাদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভ্যাকসিন নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানো রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্য বলার সাহস না থাকলে তিনি কাউকে ভোট দেবেন না।
সিবিএস নিউজের "ফেস দ্য নেশন" অনুষ্ঠানে মার্গারেট ব্রেনানের সাথে ২৬ জুলাই, ২০২৬ (July 26, 2026) তারিখে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে স্যান্ডার্স এসব কথা বলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের আবেদনের বিষয়ে স্যান্ডার্স বলেন, কংগ্রেসের উভয় কক্ষই যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের প্রস্তাব পাস করে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ট্রাম্প যা করছেন তা অবৈধ। সিবিএস-এর জরিপ অনুযায়ী, ইরানের বিষয়ে কার নীতি ভালো—এমন প্রশ্নে ৩২% (32%) মানুষ ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের পক্ষে এবং মাত্র ৩০% (30%) মানুষ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন। দেশের অর্থনীতি ধ্বংসকারী এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এই যুদ্ধ বন্ধ করতে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ১০০ দিন বাকি থাকতে স্যান্ডার্স দেশজুড়ে প্রগতিশীল প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মেইন অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে গতকাল ৬০০ (600) জন প্রাইমারি ডেলিগেট যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জর্জরিত গ্রাহাম প্ল্যাটনারের পরিবর্তে ট্রয় জ্যাকসনকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেন, যাকে স্যান্ডার্স স্বাগত জানান। স্যান্ডার্স বলেন, জ্যাকসন একজন শ্রমজীবী মানুষ এবং তিনি বোঝেন যে কীভাবে একটি কারচুপির অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষ পিষ্ট হচ্ছে। তবে মিশিগানে আব্দুল আল-সায়েদ এবং মিনেসোটায় পেগি ফ্ল্যানাগানের মতো প্রগতিশীল প্রার্থীদের হারাতে ধনকুবেরদের সুপার প্যাকগুলো (Super PACs) প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ করছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে রাহম ইমানুয়েলের সমালোচনার জবাবে স্যান্ডার্স বলেন, ইমানুয়েলের মতো এস্টাবলিশমেন্ট নেতারা ধনকুবেরদের চাঁদার ওপর নির্ভরশীল এবং তারা বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চান। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের একমাত্র প্রধান দেশ হিসেবে কেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না, যেখানে কানাডা বা ইউরোপের দেশগুলো তা সহজেই করছে। ইলন মাস্কের মতো একজন ব্যক্তির কাছে মার্কিন সমাজের নিচের দিকের অর্ধেক মানুষের চেয়েও বেশি সম্পদ থাকা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতের করুণ দশা নিয়ে তিনি বলেন, ওষুধ ও বীমা কোম্পানিগুলো রাজনৈতিক দলগুলোকে বিপুল অর্থ দিয়ে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। স্যান্ডার্স বলেন, তার নিজের অঙ্গরাজ্য ভার্মন্টেও স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এই ব্যবস্থার পরিবর্তনে তিনি 'সবার জন্য মেডিকেয়ার' (Medicare for All) চালুর দাবি জানান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর শীর্ষ পদে মনোনয়নের বিষয়েও কথা বলেন স্যান্ডার্স। সিডিসি প্রায় ১১ মাস (11 months) ধরে কোনো সিনেট-অনুমোদিত নেতৃত্ব ছাড়াই রয়েছে এবং এফডিএ-র কোনো প্রধান নেই প্রায় ৬০ দিন (60 days) ধরে। ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী ড. এরিকা শোয়ার্জ সম্পর্কে স্যান্ডার্স বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাকে পছন্দ করলেও তিনি স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের (ববি কেনেডি) ভ্যাকসিন সংক্রান্ত অবৈজ্ঞানিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারবেন না। তাই তিনি ড. শোয়ার্জকে ভোট দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের গায়ে সতর্কীকরণ লেবেল লাগানোর একটি বিলে রিপাবলিকানদের দ্বিপাক্ষিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

