নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ জানিয়েছেন যে তিনি তার ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি এই ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি নারীদের পারিবারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যে ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হয়, তা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
কংগ্রেস সদস্য বলেন, নারীরা সন্তান নেবেন কি নেবেন না, বা কখন নেবেন—যেকোনো সিদ্ধান্তেই তাদের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়। তার মতে, এই নেতিবাচকতা মূলত নারীদের মনে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরির একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। ওকাসিও-কর্তেজের এই স্বচ্ছতাকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অনেকে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন। তবে অনেক নারী তার এই যাত্রার প্রশংসা করে বলেছেন যে এটি তাদের মতো যারা মাতৃত্বের জন্য প্রস্তুত নন, তাদের অনুপ্রাণিত করবে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের মধ্যে দেরিতে মা হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ৩০ বছর বা তার বেশি এমনকি ৪০ বছর বয়সী নারীরাও এখন প্রথমবার মা হচ্ছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বজুড়ে জন্মহার নিম্নমুখী, তবে ৪০ বা তার বেশি বয়সী আমেরিকান নারীদের মধ্যে উর্বরতার হার বেড়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীদের জন্মহার কমলেও, ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে তা অপরিবর্তিত ছিল। বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে থাকে, তাই নারীরা ভবিষ্যৎ মাতৃত্বের সুযোগ ধরে রাখতে এই পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন।
ইলিউম ফার্টিলিটির রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ড. ইলানা রেসলার জানান, প্রযুক্তির উন্নতি এবং কর্মক্ষেত্রে বা বিমার সুবিধা পাওয়ায় ডিম্বাণু সংরক্ষণের হার বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ৩৩ বছর বয়সী কোনো নারী যদি এমন সঙ্গী না পান যার সাথে তিনি সন্তান নিতে চান, তবে তিনি জৈবিক ঘড়ির চাপে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান না। এছাড়া ২৯ বছর বয়সী কোনো নারী যদি রুটিন পরীক্ষায় ডিম্বাণুর সংখ্যা কম পান, তবে তিনি এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ইন্সটিটিউট ফর ফ্যামিলি স্টাডিজের ২০২২ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ সঠিক সঙ্গী না পাওয়াকে, ৩৬ শতাংশ আর্থিক অস্বচ্ছলতাকে এবং ২৫ শতাংশ জীবনধারা বা ক্যারিয়ারকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওকাসিও-কর্তেজ গত ৯ আগস্ট এবিসি নিউজের 'দিস উইক' অনুষ্ঠানে তার এই পরিকল্পনার কথা জানান এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।

