যুক্তরাজ্যের অ্যাপ ডেভেলপাররা মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের বিরুদ্ধে ২৭০ কোটি ডলারের একটি বিশাল মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, অ্যাপল তাদের নিজস্ব বিজ্ঞাপন পরিষেবাকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষের ওপর কঠোর প্রাইভেসি নীতিমালা চাপিয়ে দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার আইন সংস্থা হাউসফেল্ডের মাধ্যমে কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অ্যাপলের 'অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি' (ATT) সিস্টেম, যা ২০২১ সালে চালু করা হয়েছিল। এই ফিচারের মাধ্যমে অ্যাপগুলোকে কোনো পপ-আপ উইন্ডোর সাহায্যে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে সম্মতি নিতে হয়, যাতে তারা অন্যান্য অ্যাপ ও ওয়েবসাইট জুড়ে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ ট্র্যাক করতে পারে। ব্যবহারকারী যদি সম্মতি দিতে অস্বীকার করেন, তবে সেই অ্যাপ আর ব্যবহারকারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার পায় না, যা মূলত বিজ্ঞাপন লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
হাউসফেল্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সিস্টেমটি অন্যায়ভাবে এবং যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে তৃতীয় পক্ষের ডেভেলপারদের ওপর কঠোর নিয়ম আরোপ করা হলেও অ্যাপল তাদের নিজস্ব পরিষেবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম অনুসরণ করেনি। এর ফলে যুক্তরাজ্যের অ্যাপ ডেভেলপাররা তাদের ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়নি এবং বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছেন কম্পিটিশন অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটির সাবেক কর্মকর্তা অ্যান পোপ। তিনি জানান, ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকার রক্ষা এবং তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্যই এই মামলা করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, রোমানিয়া এবং পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষও অ্যাপলের এই ATT সিস্টেম নিয়ে একই ধরনের তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া ফ্রান্স ও ইতালিতে এ সংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন মামলায় অ্যাপলকে যথাক্রমে ১৭৪.৫ মিলিয়ন ডলার এবং ১১৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি জরিমানা করা হয়েছিল।
তবে অ্যাপলের এক মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, এই ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে ব্যবহারকারীদের সহজ নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার জন্য, যাতে তারা অন্য কোম্পানির অ্যাপ বা ওয়েবসাইট জুড়ে তাদের কার্যকলাপ ট্র্যাক করার অনুমতি দেবে কি না তা নির্ধারণ করতে পারে। মুখপাত্র আরও দাবি করেন, অ্যাপল নিজেও ATT-এর অধীনে সব ডেভেলপারদের মতো একই নিয়মের বাধ্যবাধকতার মধ্যে রয়েছে এবং গ্রাহক ও প্রাইভেসি প্রবক্তারা এই ফিচারটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অ্যাপল তাদের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে।

