ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা অ্যাশলি ইয়াং অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেসের সাম্প্রতিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত রবিবার প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে ফার্নান্দেসকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি, যা নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া মোটেও পছন্দ হয়নি ইয়াংয়ের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোমো-র কাছে ৪-১ ব্যবধানে হারের পর মাইকেল ক্যারিকের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ফার্নান্দেসকে বেঞ্চে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে হ্যারি ম্যাগুয়ার দলের নেতৃত্ব দেন।
স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়াং বলেন, কোনো খেলোয়াড়কে বেঞ্চে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ফুটবলে স্বাভাবিক ঘটনা, কিন্তু ফার্নান্দেস যেভাবে তার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তা একজন অধিনায়কের জন্য শোভনীয় নয়। ম্যানচেস্টার ইভিনিং নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পৌঁছানোর সময় ফার্নান্দেসের হুড তোলা ছিল, যা দেখে মনে হয়েছে তিনি বেশ ক্ষুব্ধ। ইয়াং বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে বাদ পড়াটা কষ্টের, কিন্তু একজন অধিনায়কের উচিত ছিল ইতিবাচক মানসিকতা দেখানো। তার উচিত ছিল এটা মেনে নিয়ে যখনই মাঠে নামার সুযোগ পাবেন, তখন নিজের দক্ষতা প্রমাণ করা।
মাইকেল ক্যারিক অবশ্য জানিয়েছেন, দলীয় কৌশলগত কারণেই ফার্নান্দেসকে বেঞ্চে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, যখন হাতে অনেক বিকল্প থাকে, তখন দলের পারফরম্যান্সের কথা ভেবে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। অপটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেওয়ার পর এই নিয়ে মাত্র ষষ্ঠবার প্রিমিয়ার লিগে ফার্নান্দেসকে বেঞ্চে রাখা হলো। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পয়েন্ট টেবিলের ১৫তম স্থানে রয়েছে এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জয়হীন অবস্থায় আছে।
ফার্নান্দেসের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে টিকে থাকার বড় শক্তি হলো তার সহজলভ্যতা। দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্যমতে, ২০২০-২১ মৌসুম থেকে এ পর্যন্ত ইউনাইটেডের মোট ১৯৭টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচের মধ্যে ১৮৬টিতেই তিনি খেলেছেন। গত মৌসুমে তিনি পিএফএ প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং প্রিমিয়ার লিগে ২১টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে তিনি ক্লাবের হয়ে ৩০০টিরও বেশি ম্যাচে ২০০টি গোল সরাসরি অবদান রাখার মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। তবে চলতি মৌসুমে তিনি ১১ ম্যাচে মাত্র চারটি গোল করেছেন, যার সর্বশেষ গোলটি এসেছিল ১০ সেপ্টেম্বর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সাবাহ-এর বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত ইয়াংয়ের মন্তব্যের বিষয়ে ফার্নান্দেস বা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

