২৩ বছর আগে যখন বাংলাদেশ প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল, তখন তারা টেস্ট ক্রিকেটে ছিল একেবারেই নতুন। সেই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ঐতিহাসিক জয়ের মতো সাফল্যও তাদের ঝুলিতে রয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়াই করাটা এখনো বাংলাদেশ দলের জন্য ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ। ডারউইনে দুই ম্যাচ সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টের আগে ক্রিকেট মহলে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাংলাদেশ কি আসলে পাঁচ দিন পর্যন্ত ম্যাচটি টেনে নিতে পারবে কি না।
সেই ২০০৩ সালের সফরে তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার ডেভিড হুকস স্বাগতিকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন তারা একদিনেই ম্যাচ শেষ করে দেয়। দুই যুগ পর বাংলাদেশ এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক দল হলেও, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানান, দলের ভেতর টেস্টের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। তিনি বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে তারা প্রতিটি সেশন ধরে ভালো ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। ম্যাচটি কয়দিন চলবে তা নিয়ে বাইরে নানা আলোচনা থাকতে পারে, তবে দলের মনোযোগ কেবল ভালো পারফরম্যান্সের দিকেই।
প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর টেস্টের স্থায়িত্ব নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে শান্ত বিষয়টিকে কেবল একটি প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে থেকেই তারা দেশে বাউন্সি উইকেটে খেলার প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং অস্ট্রেলিয়া আসার ১০-১২ দিন আগেই তারা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এই বাড়তি বাউন্স মোকাবিলা করাই হবে মূল কাজ।
দলের জন্য স্বস্তির খবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে লিটন দাস প্রথম টেস্টের জন্য ফিট হয়ে ফিরেছেন। শান্ত মনে করেন, লিটনের উপস্থিতি ব্যাটিং লাইনআপের গভীরতা বাড়াবে এবং তার ধারাবাহিকতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে পেসার নাহিদ রানার ইনজুরি দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তার গতি অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারত, তবে এখনকার পেস ইউনিটও কন্ডিশন বুঝে ভালো করবে বলে আশা করছেন অধিনায়ক।
ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশ অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছে, তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে তাদের আরও অনেক পথ চলা বাকি। এখন দেখার বিষয়, ডারউইনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তারা কতটা লড়াই করতে পারে।

