কোনো ধ্রুপদী গল্পের নতুন রূপান্তর তৈরির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রশ্নই ওঠে, কেন আবারও একই গল্প? নতুন টিভি সিরিজ 'ক্যারি'-র নির্মাতা মাইক ফ্লানাগান সমালোচকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বীকার করেছেন যে, এই প্রজেক্টের প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনিও নিজেকে প্রথম এই প্রশ্নটিই করেছিলেন। ব্রায়ান ডি পালমার সেই বিখ্যাত হরর সিনেমা, যা স্টিফেন কিংয়ের প্রথম উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল, তা অর্ধ শতাব্দী ধরে দর্শকদের শিহরিত করেছে। সেই গল্পের সঙ্গে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে সংশয় থাকাটাই স্বাভাবিক।
ডি পালমার পরিচালিত মূল সিনেমাটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ধারালো, যা মাত্র ৯৮ মিনিটে হাইস্কুলের ট্র্যাজেডি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অন্যদিকে ফ্লানাগানের সংস্করণটি আট ঘণ্টার একটি সিরিজ, যেখানে চরিত্র ও গল্পের পরিধি আরও বিস্তারিত করা হয়েছে। এমনকি দ্বিতীয় সিজনের জন্য বীজ বপনের ইঙ্গিতও রয়েছে। তবে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের অনেক সিরিজের মতো এটি অহেতুক দীর্ঘ বা স্ফীত নয়। প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনার পেছনে একটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এটিকে কেবল রক্তক্ষয়ী হরর না ভেবে, কিশোর জীবনের নানা জটিলতা ও টানাপোড়েনের এক নাটকীয় সংস্করণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। আজকের এই কঠোর পৃথিবীতে সিরিজটির মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বেশ প্রাসঙ্গিক।
সিরিজটির শুরুটা হয়েছে হাইস্কুলের জিমে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দিয়ে। ৯১১-এ আসা ফোনকলের মাধ্যমে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ভয়াবহতা ফুটে ওঠে, যেখানে প্রায় ২০০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপরই উঠে আসে ক্যারিকে নিয়ে নানা মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মতামত—কেউ তাকে লাজুক বলেছে, কেউ বলেছে দানব, আবার কেউ তাকে শিকার বা দয়ালু হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মূল সিনেমার তুলনায় মার্গারেট চরিত্রটিকে আরও ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রক্ষণশীল খ্রিস্টান আদর্শের পাশাপাশি তার মেয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিরাপত্তাহীনতা সিরিজটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। একইভাবে ক্যারির প্রধান শত্রু ক্রিস এবং তার বন্ধু সু-এর চারিত্রিক বিবর্তনও বেশ সূক্ষ্মভাবে দেখানো হয়েছে। বুলিং বা উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি এখানে মূল হরর উপাদানের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। শাওয়ারের সেই বিখ্যাত দৃশ্যটি এখানে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আধুনিক সাইবার বুলিংয়ের চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে।
অবশ্যই, এই নতুন 'ক্যারি' মূল সিনেমার মতো সেই আদিম বা কাঁচা শক্তির অধিকারী নয়। তবে সিরিজটি কিশোর মনের ভালো ও মন্দের যে জটিল সমীকরণ ফুটিয়ে তুলেছে, তা নিঃসন্দেহে বুদ্ধিদীপ্ত এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

