ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে। ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্স এক্সচেঞ্জের ট্রানজ্যাকশন প্রসেসিংয়ের কাজে ব্যবহৃত ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছে। এই ঘটনার পর বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সমস্ত উত্তোলন স্থগিত করেছে এবং তদন্তের স্বার্থে পাবলিক ব্লকচেইনে থাকা প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টো ফ্রিজ বা জব্দ করেছে।
গোকশটেইন মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড গোকশটেইন সতর্ক করে বলেছেন, 'এক্সচেঞ্জ অ্যাকাউন্ট কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নয়। আপনি যা ট্রেড করছেন তা এক্সচেঞ্জে রাখুন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য নিজস্ব ওয়ালেট ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।' বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জও যে চুরির শিকার হতে পারে, তা এই ঘটনা প্রমাণ করেছে।
প্রাথমিকভাবে ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার সন্দেহ করা হলেও, পরবর্তী তদন্তে একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়েছে। ইউএস ব্লকচেইন অ্যানালিটিক্স ফার্ম টিআরএম ল্যাবস (TRMLabs) জানিয়েছে, হ্যাকাররা বাইন্যান্সের 'সাইনিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার' ব্যবহার করে গ্রাহকদের আমানত রাখা ওয়ালেটগুলো খালি করে ফেলেছে। টিআরএম-এর মতে, এই আক্রমণটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল এবং এর পেছনে উত্তর কোরিয়ার প্রধান হ্যাকিং ইউনিট 'ট্রেডারট্রেইটর'-এর হাত রয়েছে। আক্রমণের ৩৬ ঘণ্টা আগে ছোট পরিসরে মহড়া বা রিহার্সাল চুরিও চালানো হয়েছিল।
চুরির পরপরই ক্রিপ্টো ইস্যুকারীরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ ব্লক করা সম্ভব হয়েছে, যাতে সেগুলো আর ভাঙানো বা খরচ করা না যায়। তবে হ্যাকাররা ৬০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টেথার (Tether) স্টেবলকয়েন ইথারে রূপান্তর করে আভে (Aave) প্ল্যাটফর্মে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, জব্দ করা ক্রিপ্টো উদ্ধারের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং আইনি জটিলতায় এর জন্য কয়েক বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা অ্যাবসোলিউট সিকিউরিটির অ্যান্ডি ওয়ার্ডের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিকাশের সাথে সাথে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের সাইবার হামলার আশঙ্কা রয়েছে। গ্লোবালডেটা রিসার্চ ফার্মের ফিবি হজসন মনে করেন, প্রতিষ্ঠানের উচিত এমনভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাতে কোনো লঙ্ঘন হলেও তা যেন অপরিবর্তনীয় আর্থিক ক্ষতিতে রূপ না নেয়। বর্তমানে ক্রিপ্টো সম্পদের জন্য কোনো ফেডারেল বিমা নেই, তাই ব্যবহারকারীদের নিজেদের সম্পদ সুরক্ষায় হার্ডওয়্যার ওয়ালেট বা অফলাইন স্টোরেজ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

