কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় গত সপ্তাহে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দ্রুতগতির এই দাবানলে প্রায় ১৫০টি ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগের কারণে ২০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে হয়েছে।
ব্রিটিশ কলম্বিয়া জুড়ে এখনও প্রায় ২,২০০ জন বাসিন্দা উচ্ছেদ আদেশের অধীনে রয়েছেন এবং প্রায় ২৫,০০০ মানুষ সতর্কাবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন প্রদেশের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী কেলি গ্রিন। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সামারল্যান্ড এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
গত ৭ আগস্ট 'বল্ড রেঞ্জ' দাবানলটি শুরু হয়ে সামারল্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকায় এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, দমকল কর্মীদের আগুন নেভানোর কাজ বন্ধ রেখে মানুষকে উদ্ধারে নামতে হয়েছিল। এর পরদিনই ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় প্রাদেশিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রদেশের প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেন, এই দাবানলের তীব্র গতি ব্রিটিশ কলম্বিয়ার জন্য একটি 'নতুন স্বাভাবিকতা' (নিউ নরমাল) হয়ে উঠতে পারে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল মোকাবেলায় প্রস্তুতি পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘস্থায়ী খরা ও চরম শুষ্ক আবহাওয়া এই আগুনকে আরও উসকে দিয়েছিল।
ওকানাগান অঞ্চলের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দার শহর সামারল্যান্ডে অন্তত ৪০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাকি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে, যার মধ্যে ফল্ডার অন্যতম। সেখানে বেশ কিছু বাড়ি পুড়ে শুধু কালো ভিত্তিপ্রস্তরটি অবশিষ্ট রয়েছে। সামারল্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রাহাম স্ট্যাট সতর্ক করেছেন যে, পরিদর্শক দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকায় পৌঁছালে ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের আগে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে কর্তৃপক্ষ। তাদের কয়েকজনকে মানসিক কাউন্সেলিংয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।
সামারল্যান্ডের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পিচল্যান্ড ও এর আশপাশের হাজার হাজার বাসিন্দাকেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে, গত ১ আগস্ট ওকানাগান হ্রদের উত্তরাঞ্চলে 'ব্র্যাডলি ক্রিক' দাবানলে প্রায় ২৩০টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় দাবানলের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ব্যাপক উচ্ছেদ এবং প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রেও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে।

