যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে কানাডা সরকার মার্কিন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শিল্প খাতকে লক্ষ্য করে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি ২৫ আগস্ট এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে কানাডা অত্যন্ত কৌশলী ও বিচক্ষণতার সাথে এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে, যা ২০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ মার্কিন আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি ২২ আগস্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রতিক্রিয়া। ট্রাম্প সে সময় কানাডা থেকে আমদানি করা ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, কানাডা দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে এবং তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে অন্টারিওর সাথে বাণিজ্য করার কোনো আগ্রহ তার নেই। এছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
কানাডা সরকার দুধ, ক্রিম, পনির, টয়লেট পেপার, ফেসিয়াল টিস্যু এবং কাঠের মণ্ডসহ ৬০০টিরও বেশি পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করছে। চুলা, ডিশ ওয়াশার ও রেফ্রিজারেটরের মতো গৃহস্থালী সরঞ্জামের ওপরও ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। কানাডার মন্ত্রী মেলানি জোলি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্যের পণ্যকে লক্ষ্য করেই এই শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করা যায়।
উইসকনসিনের গভর্নর টনি এভারস এই বাণিজ্য যুদ্ধের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ডেইরি খাতের কৃষক ও উৎপাদকদের বিপদে ফেলেছে। আমেরিকান ফরেস্ট অ্যান্ড পেপার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হেইডি ব্রক উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ এই শুল্কের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, ওহাইও-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল জানিয়েছে, এই শুল্কের কারণে তাদের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
অন্যদিকে, ফিশারিজ মন্ত্রী জোয়ানি থম্পসন জানিয়েছেন, কানাডার উপকূলীয় অর্থনীতিতে মৎস্য শিল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় সামুদ্রিক খাবারের ওপর শুল্ক আরোপের প্রাথমিক পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন সিনেটর সুসান কলিন্স এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বাণিজ্য যুদ্ধ নিরসনে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশের শিল্প সংশ্লিষ্টরা শুল্ক শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আলোচনার দাবি জানাচ্ছেন।

