দক্ষিণ সুদানের পশ্চিম করদোফানের দুটি এলাকায় কলেরার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় ত্রাণ সংস্থা দার হামার ইমার্জেন্সি রুমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩১০ জনেরও বেশি মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন বা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আল-উদাইয়াহ এলাকার হুমেইর গ্রাম এবং হিল্লা হোসেন গ্রামে স্বাস্থ্য ও মানবিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। হুমেইর গ্রামে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যেখানে ১২০ জন সন্দেহভাজন রোগী একটি আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ১১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও শিরায় দেওয়ার মতো তরল ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।
হিল্লা হোসেন গ্রামের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে ত্রাণ গোষ্ঠীটি। সেখানে ১৯০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১২ জন মারা গেছেন। যাতায়াত ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় এলাকাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রাণ সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এলাকায় খাদ্য সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে গবাদি পশুর খাদ্য ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য তারা আন্তর্জাতিক ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) গত ১৪ জুলাই সতর্ক করেছিল যে, সুদানের চলমান সংঘাত ও বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে ১,৩৩০ জন কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (RSF) মধ্যে চলমান সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

