৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিআইএ শুক্রবার ৭১টি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। হামলার আগের মাস ও বছরগুলোতে ওসামা বিন লাদেন এবং আল-কায়েদার কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা এই নথিগুলো থেকে নতুন করে জানা যাচ্ছে। প্রকাশ করা প্রতিবেদনের মধ্যে ৭০টি ২০০১ সালের হামলার আগের এবং একটি হামলার পরের দিনের। ৯/১১ কমিশন এর আগে এর মধ্যে দুটি নথি প্রকাশ করেছিল।
সিআইএ পরিচালক র্যাটক্লিফ এক বিবৃতিতে জানান, ২৫ বছর আগে এই হামলা আমাদের জাতির ওপর আঘাত হানলেও তারা আমাদের ভাঙতে পারেনি। সিআইএ কর্মকর্তারা তখন থেকেই নিহত আমেরিকানদের জন্য বিচার নিশ্চিত করতে এবং আল-কায়েদা যেন আর কখনো দেশের ক্ষতি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
নতুন নথিগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে, ৯/১১-এর আগে বিন লাদেন ও তার অনুসারীরা যুক্তরাষ্ট্রে হামলার বিষয়ে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশের জন্য প্রস্তুত করা 'প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফ' (পিডিবি) থেকে এই মূল্যায়নগুলো নেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় সব নথিই কিছুটা অংশ গোপন (রিডাকশন) করা হয়েছে।
সবচেয়ে পুরনো নথিটি ১৯৯৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির। এতে বলা হয়, বিন লাদেন এবং অন্যান্য ইসলামী চরমপন্থীরা ওপেন মার্কেট থেকে রাসায়নিক, জৈবিক ও পারমাণবিক পদার্থ সংগ্রহের বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রতিবেদনে বিন লাদেনের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও আর্থিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা তাকে এসব অস্ত্র অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
তৎকালীন আফগানিস্তানে তালেবানের আশ্রয়ে থাকা বিন লাদেন ও তার যোদ্ধাদের সম্পর্কেও বেশ কিছু নথি রয়েছে। ১৯৯৯ সালের অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিন লাদেন তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরের সঙ্গে যুক্ত ৫৭টি মাদক ল্যাবরেটরিতে বড় বিনিয়োগ করেছিলেন। যদিও ৯/১১ কমিশন পরবর্তীতে বিন লাদেনের মাদক পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পায়নি। ১৯৯৮ সালের ফেব্রুয়ারির আরেকটি প্রতিবেদনে বিন লাদেনের ফতোয়ার কথা বলা হয়, যেখানে সৌদি আরব ও ফিলিস্তিন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছিল।
১৯৯৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের একটি মেমোতে সতর্ক করা হয় যে, চরমপন্থীরা বিস্ফোরকভর্তি বিমান নিয়ে মার্কিন শহরে আঘাত হানতে পারে। তবে এতে এও বলা হয় যে, বিন লাদেনের আসন্ন হামলার কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। ৯/১১ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদি সিআইএ-র কাউন্টার টেরোরিস্ট সেন্টার বিষয়টি নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করত, তবে তারা বুঝতে পারত যে বড় জেট বিমান চালনায় সক্ষম আত্মঘাতী হামলাকারী খুঁজে বের করা সন্ত্রাসীদের জন্য একটি বড় বাধা ছিল।
২০০১ সালের আগস্টের কুখ্যাত মেমো 'বিন লাদেন ডিটারমাইন্ড টু স্ট্রাইক ইন ইউএস'ও এই তালিকায় রয়েছে। এতে এফবিআই-এর তথ্যের ভিত্তিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ভবনগুলোতে নজরদারি এবং হাইজ্যাকের প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে আসে। এছাড়া ২০০১ সালের আগস্টে মোল্লা ওমরের সঙ্গে বিন লাদেনের মতপার্থক্যের কথাও নথিগুলোতে আছে, যেখানে বিন লাদেন তাকে জানিয়েছিলেন যে তার চলমান অপারেশনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি করবে। কমিশন জানায়, ৯/১১ প্রতিরোধে ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল কল্পনাশক্তি ও সক্ষমতার অভাব।

