ডাবলিনের ইন্টারন্যাশনাল বারের বেসমেন্টে অবস্থিত চ্যাকি মাঙ্কি কমেডি ক্লাবের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জয়শ্রী মালিক যখন আইরিশ সরকারের পাঠানো একটি খাম বের করেন, তখন দর্শক কিছুটা কৌতূহলী হয়ে ওঠে। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণী হাসতে হাসতে যখন চিঠিটি পড়তে শুরু করেন, তখন শ্রোতারা বুঝতে পারেন এটি কোনো কৌতুক নয়, বরং একটি বাস্তব নির্বাসন আদেশ। চিঠিতে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, ১৯৯৯ সালের অভিবাসন আইনের ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, তিনি আর আয়ারল্যান্ডে থাকার অনুমতি পাচ্ছেন না এবং তার নির্বাসন জনস্বার্থের জন্য প্রয়োজন বলে মনে করছে বিচার বিভাগ।
দিল্লির নিকটবর্তী গুরুগ্রাম থেকে আসা জয়শ্রী ২০২২ সালে ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনে এমফিল পড়তে ছাত্র ভিসায় আয়ারল্যান্ডে এসেছিলেন। পড়াশোনা শেষে তিনি থার্ড লেভেল গ্র্যাজুয়েট স্কিমের অধীনে দুই বছর কাজ করার সুযোগ পান। ট্রিনিটি কলেজেই তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতেন। তবে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করার পর প্রক্রিয়াকরণে দেরি হওয়ায় তিনি ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরি হারান এবং আইনি জটিলতায় পড়েন। বিচার বিভাগ তাকে সাফ জানিয়ে দেয়, আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকাকালীন তার কাজ করার কোনো অধিকার নেই।
এই অনিশ্চিত সময়ে জয়শ্রী তার উদ্বেগ কমাতে কমেডি শো-তে অংশ নিতে শুরু করেন। তিনি জানান, তার জীবনের এই কঠিন সময়গুলোই এখন তার কমেডি শো-এর প্রধান উপজীব্য। কিছু দর্শক প্রথমে মনে করেন তিনি কোনো চরিত্রের অভিনয় করছেন, কিন্তু সত্য জানার পর তারা স্তম্ভিত হয়ে যান। লেবার পার্টির নেতা ইভানা বাচিক জয়শ্রীর এই ঘটনাকে আয়ারল্যান্ডের অভিবাসন নীতির কঠোরতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গাজার শিক্ষার্থীদের ভিসার ক্ষেত্রেও বিচার বিভাগ অহেতুক কড়াকড়ি করছে। তবে বিচার বিভাগের মুখপাত্রের দাবি, প্রতিটি ভিসার আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয় এবং ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
গত ৫ অক্টোবর নির্বাসনের চিঠি পাওয়ার পর জয়শ্রী মালিকের আয়ারল্যান্ডে থাকার লড়াই শেষ হয়েছে। আগামী ১৪ নভেম্বর তিনি ডাবলিন বিমানবন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। তিনি জানান, রাগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মঞ্চকে বেছে নিয়েছেন, কারণ মঞ্চে কৌতুক করে এই কঠিন পরিস্থিতিকে কিছুটা হালকা করা যায়। আয়ারল্যান্ডে তার অনেক বন্ধু তাকে পরিবারের মতো সমর্থন জোগাচ্ছেন, কিন্তু বিদায়ের এই বাস্তবতাকে তিনি এখনো পুরোপুরি মেনে নিতে পারছেন না।

