হাভানার লা ভিভোরা এলাকায় অবস্থিত সান ফ্রান্সিসকো ডি পলা হোম ফর এল্ডারলি উইমেন-এর প্রাঙ্গণে সিস্টার সিসিলিয়া মারিয়া ফুয়েন্তেস আভিলা প্রতিদিন প্রবীণদের খোঁজখবর নেন। এখানে ১০২ জন প্রবীণ নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ৭০ থেকে ৯১ বছরের মধ্যে। তাদের অনেকেই পরিবারহীন, নিঃস্ব এবং শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত। এই নারীরা তাদের জীবনের শেষ দিনগুলো এখানেই কাটাচ্ছেন।
কিউবার বর্তমান চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে যেখানে গত কয়েক বছরে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছেন, সেখানে প্রবীণদের দেখভালের দায়িত্ব এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি অবরোধ এবং অবকাঠামোগত চরম অবহেলার কারণে দেশটিতে খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। এক সময়ের বিপ্লবী সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি এখন অনেকটা ফিকে হয়ে এসেছে, যার ফলে প্রবীণরা কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
সিস্টার সিসিলিয়া, যিনি ৬৩ বছর বয়সী, প্রতিদিন ভোর ৬টায় তার দিনের কাজ শুরু করেন। তাকে প্রতিদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ওষুধের অভাব, এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের সাথে লড়াই করতে হয়। আশ্রমে ১৭ জন নার্স, তিনজন প্রশাসক ও দুইজন ডাক্তারসহ ৮০ জন কর্মী কাজ করেন। আশ্রমে বিদ্যুৎ না থাকলে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা দিয়ে রান্নাঘর, লন্ড্রি এবং হাসপাতালের কিছু যন্ত্রপাতি চালানো হয়।
কিউবার জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির ২৬ শতাংশ মানুষের বয়স ৬০ বছরের বেশি, যা ২০৪০ সাল নাগাদ ৩৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। প্রবীণদের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যার জন্য দেশটির সমাজ ব্যবস্থা খুব একটা প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন ওএনইআই-এর ইলেইন আকোস্টা। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাথলিক চার্চ অনেকটা নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করছে।
আশ্রমে যারা আসেন, তারা প্রায়শই শেষ বয়সে এসে পৌঁছান। কেউ কেউ ডিমেনশিয়া, ডায়াবেটিস বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ৩৬ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারগুলো তাদের প্রবীণ সদস্যদের এখানে রেখে যাচ্ছেন, কারণ তারা নিজেরাও টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত অথবা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।
সিস্টার সিসিলিয়া নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তহবিল সংগ্রহ করেন এবং ক্যারিতাস কিউবার সহায়তা নেন। তিনি জানান, তার এই কাজের মূল অনুপ্রেরণা হলো ধর্মীয় সেবা। প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি এবং তার কর্মীরা প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্টিনেজ প্যাড্রনের মতো প্রবীণরা মনে করেন, এখানে তারা অন্তত একটি ছাদ ও সেবার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন, যা তাদের কাছে ভাগ্যের বিষয়।

