জিবুতি উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, ৮-৯ অক্টোবর রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের মধ্যে ১৫ জন শিশু রয়েছে। নৌকাটিতে মোট ৩৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যারা জিবুতি থেকে ইয়েমেনের দিকে যাচ্ছিলেন। ওবোক শহরের উত্তরে নৌকাটি ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া ১০৯টি মরদেহের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী এবং ১৫ জন শিশু (৯ মেয়ে ও ৬ ছেলে) রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি মানুষ বেঁচে ফিরেছেন, যাদের সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক। আইওএম-এর জিবুতি মিশনের প্রধান আলেকজান্দ্রে কোইসাক এই ঘটনাকে এক ভয়াবহ প্রাণহানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আইওএম দলগুলো জিবুতি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে এবং জীবিতদের জরুরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
আইওএম-এর মতে, দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছে। ইয়েমেনে পৌঁছানোর জন্য অভিবাসীরা বাবেল মানদেব প্রণালী পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইয়েমেনে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সত্ত্বেও মানুষ অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় এই পথ বেছে নিচ্ছে।
বর্তমানে ওবোকের একটি অভিবাসী কেন্দ্রে ৬৪ জন জীবিত ব্যক্তিকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জিবুতি কর্তৃপক্ষ এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ ইথিওপিয়া থেকে জিবুতিতে প্রবেশ করেছে। ২০২৫ সালে ইয়েমেনের সমুদ্রপথে ৯০০ জনের বেশি অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আরেকটি নৌকাডুবিতে ৯ জনের মৃত্যু এবং ৪৫ জন নিখোঁজ হয়েছিল। আইওএম জানিয়েছে, এই পথে যাত্রীর সংখ্যা ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অধিকাংশ যাত্রী ইথিওপিয়া বা সোমালিয়া থেকে আসছেন। সংস্থাটি জিবুতির উদ্ধার অভিযান ও জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দাতা ও অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

