কিংবদন্তি শিল্পী ডলি পার্টনের মৃত্যুতে শোকাহত রবার্ট রাইখ। তিনি জানান, ডলি পার্টনের মূল্যবোধের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ছিল এবং এই শিল্পী তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ ছিলেন। ডলি পার্টনের প্রয়াণকে তিনি এক বিশাল শূন্যতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এর বিপরীতে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন রাইখ। গ্লেন বেকের রেডিও অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ডলি পার্টন তাকে পছন্দ করতেন, যা নিয়ে রাইখ প্রশ্ন তুলেছেন। ট্রাম্পের মানসিক অবস্থা এবং তার আচরণকে রাইখ একজন 'ক্ষুব্ধ শিশুর' সাথে তুলনা করেছেন, যিনি নিজের পরাজয় নিয়ে সবসময় আতঙ্কিত থাকেন।
ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাইখ উল্লেখ করেন, কংগ্রেসের সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই ট্রাম্প এই সংঘাত শুরু করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান পারস্য উপসাগরে আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। রাইখের মতে, ট্রাম্পের ইরান নীতি ব্যর্থ হয়েছে এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পরাজয় ঢাকার চেষ্টায় ট্রাম্প এখন কানাডার মতো বন্ধুপ্রতীম দেশের ওপর চড়াও হয়েছেন। কানাডা থেকে আসা গাড়ি, ট্রাক, যন্ত্রাংশ এবং স্টিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। রাইখের মতে, এটি একটি অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য যুদ্ধ, যা ট্রাম্প নিজের ভাবমূর্তি রক্ষায় শুরু করেছেন। কানাডাও এর পাল্টা জবাব হিসেবে প্রায় ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন যে, তারা আমেরিকার আধিপত্যের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। কার্নির জনপ্রিয়তা বর্তমানে ৬০ শতাংশের ঘরে, যেখানে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। রাইখ উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের এই অস্থির নীতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং খোদ মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। নেথানিয়াহু ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং রিপাবলিকানরা গরুর মাংস আমদানি নিয়ে তাকে আক্রমণ করছেন।
সবশেষে রাইখ দাবি করেন, ট্রাম্পের কথিত অপরাজেয়তার মিথ ভেঙে পড়েছে। তিনি ট্রাম্পকে একজন 'নগ্ন সম্রাট' হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের মানুষ তার এই অযোগ্যতা ও দুর্নীতি বুঝতে পারছে এবং তাকে আর আগের মতো অন্ধভাবে অনুসরণ করবে না।

