ডার্বিতে আয়ারল্যান্ড নারী দলের বিপক্ষে অনায়াস জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল। বল হাতে ইসি ওয়াংয়ের ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট এবং ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিকরা। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ নিশ্চিত করল ইংলিশ মেয়েরা। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের বোলিং তোপের মুখে আয়ারল্যান্ড মাত্র ১৬৫ রানেই অলআউট হয়ে যায়। জবাবে ইংল্যান্ড ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৩ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা আইরিশদের শুরুটা ভালো ছিল না। দ্বিতীয় ওভারেই সোফিয়া ডাঙ্কলির দুর্দান্ত থ্রোতে রানআউট হন অ্যালিস টেকটর। এরপর অধিনায়ক গ্যাবি লুইসকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরত পাঠান ইসি ওয়াং। ৮৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া আইরিশদের হাল ধরেন অ্যামি হান্টার ও লেয়া পল। এই জুটি ৮৩ বলে ৫৭ রান যোগ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
তবে ওয়াং আবার আক্রমণে এসে এই জুটি ভাঙেন। লেয়া পলকে বোল্ড করার পর লুইস লিটল এবং কারা মারে-কেও আউট করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অ্যামি হান্টারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন ওয়াং। হান্টার খেলেন ৬৪ রানের লড়াই করা ইনিংস, যা ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ধীরগতির অর্ধশতক (৭৯ বলে ৫০)। আয়ারল্যান্ড শেষ ৬ উইকেট হারায় মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে। ওয়াংয়ের ৫ উইকেটের পাশাপাশি অফস্পিনার ম্যাডি ভিলিয়ার্স ২১ রানে ২টি এবং টিলি কর্টিন-কোলম্যান ৩২ রানে ২টি উইকেট নেন।
এর আগে আইরিশ ইনিংসে ২২তম ওভারে এসে প্রথম ওভারেই উইকেট-মেডেন পান ভিলিয়ার্স, যেখানে ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট ক্যাচ দেন ডিপ মিডউকেটে কেম্পের হাতে। পরের ওভারে রেবেকা স্টোকেল ড্রাইভ করে এক্সট্রা কাভারে গিবসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। হান্টার অবশ্য ব্যক্তিগত ২৭ রানে থাকার সময় ভিলিয়ার্সকে একটি ফিরতি ক্যাচ দিলেও তা তালুবন্দী করতে পারেননি ভিলিয়ার্স। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, হান্টার বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউকেটে ভিলিয়ার্সের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ওয়াংয়ের পঞ্চম শিকার হন।
১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার মায়া বুশিয়ার ও সোফিয়া ডাঙ্কলি ঝড়ো শুরু করেন। মাত্র ৪৩ বলে ৫৪ রান তোলেন তারা। বুশিয়ার ৩১ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৪৫ রান করেন। ডাঙ্কলি প্রেন্ডারগাস্টকে একটি দুর্দান্ত ছক্কাও মারেন। তবে একটি ভুল বোঝাবুঝিতে ডাঙ্কলি রানআউট হয়ে যান। এরপর দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড কিছুটা চাপে পড়েছিল। কিয়া ম্যাককার্টনি তুলে নেন বুশিয়ার ও অ্যালিস ক্যাপসির উইকেট। জোডি গ্রিউককও উইকেটে থিতু হয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
তবে পঞ্চম উইকেটে ড্যানি গিবসন ও ফ্রেয়া কেম্পের ৩৮ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের জুটি ইংল্যান্ডকে অনায়াসে জয় এনে দেয়। গিবসন ৩৬ এবং কেম্প ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। গিবসন ব্যাক-টু-ব্যাক ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন এবং ইংল্যান্ড ২৭ ওভার হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয়।

