ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর প্রধান কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাস সতর্ক করে দিয়েছেন যে, উয়েফার কঠোর নিয়মের কারণে আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মাত্র ১৬ থেকে ১৭ জনের দল নিয়ে খেলতে বাধ্য হতে পারে তার দল। ক্লাবটির নিজস্ব যুব একাডেমি এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় আসরের মানদণ্ড পূরণ করার মতো খেলোয়াড় তৈরি করতে না পারায় এই সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।
মাত্র দুই বছর আগেও সেরি বি-তে খেলা কোমো গত মৌসুমে সেরি আ-তে চতুর্থ স্থান অর্জন করে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এই দ্রুত উত্থান ক্লাবটিকে কিছুটা অপ্রস্তুত করে ফেলেছে, যার ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলোয়াড় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তাদের কঠোর সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্যাব্রেগাস বলেন, "আমাদের উয়েফার তালিকার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেহেতু আমাদের এমন কোনো যুব একাডেমি নেই যা নির্দিষ্ট কিছু চাহিদা পূরণ করতে পারে, তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আমাদের মাত্র ১৬-১৭ জনের দল নিয়ে নামতে হতে পারে। এ কারণেই আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা সময়সাপেক্ষ এবং দুই বা তিন বছরে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।"
খেলোয়াড়দের নিজস্ব অ্যাকাডেমিতে গড়ে তোলার এই ঘাটতি কোমোর জন্য একটি বড় সমস্যা। গত মৌসুমে তাদের দলে মাত্র একজন ইতালীয় খেলোয়াড় ছিলেন, যিনি সেরি আ-তে মাত্র এক মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে ক্লাবটি ইতিমধ্যে কিছু নতুন মুখ দলে ভিড়িয়েছে। কাতানজারো থেকে তারা সই করিয়েছে ইতালি অনূর্ধ্ব-২১ দলের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় মাতিয়া লিবেরালিকে, যিনি আগে মিলানের যুব একাডেমিতে ছিলেন।
ফ্যাব্রেগাস জানান, প্রাক-মৌসুম ক্যাম্প শুরুর কয়েক দিন আগেই লিবেরালি তাকে ফোন করে শুরু থেকেই দলের সাথে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। লিবেরালির দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করে কোচ বলেন, "সে দারুণ সংকল্প দেখিয়েছে এবং দ্রুত আমাদের পরিকল্পনাগুলো রপ্ত করেছে। সে আগামীকাল খেলবে। তাকে ত্রেকুয়ার্তিস্তা বা ফলস নাইন হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।"
কোমো বর্তমানে নিজেদের মাঠ স্তাদিও সিনিগাগলিয়ায় 'কোমো কাপ' নামক একটি গ্রীষ্মকালীন টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। এই টুর্নামেন্টে ক্রিস্টাল প্যালেস, আরসি লেন্স, ফামালিকাও, ভিয়ারিয়াল এবং আল-উলা অংশ নিচ্ছে。
দলবদলের বাজারে কোমোর অন্যান্য নতুন সংযোজন নিয়েও কথা বলেন ফ্যাব্রেগাস। তিনি জানান, আলবার্তো মোরেনো এবং সের্জি রবের্তো ক্লাব ছেড়ে চলে যাবেন তা তারা জানতেন এবং দ্রুতই তাদের বিকল্প নিশ্চিত করা হয়েছে। মোরেনোর জায়গায় এসেছেন কাইকি, আর লুইস মিয়ার ওপর জানুয়ারি থেকেই নজর রাখছিল ক্লাবটি।
মিয়া সম্পর্কে ফ্যাব্রেগাস বলেন, "মিয়ার দারুণ ব্যক্তিত্ব রয়েছে, সে একজন নেতা এবং দলে ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা এনে দিতে পারে।" অন্যদিকে কাইকির রক্ষণাত্মক আগ্রাসনের প্রশংসা করলেও বল পায়ে তার খেলার ধরন আরও উন্নত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে বলে জানান কোচ।
এদিকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়া আর্জেন্টিনা দলে থাকা নিকো পাজ বর্তমানে বর্ধিত ছুটিতে রয়েছেন। তার সাথে ছুটিতে আছেন আসানে দিয়াও এবং মার্টিন বাতুরিনাও। এই তরুণদের ওপর প্রত্যাশার চাপ প্রসঙ্গে ফ্যাব্রেগাস বলেন, "এরা অনেক মানসম্পন্ন তরুণ খেলোয়াড়, তবে তাদের ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ার সাথে সাথে চাপও বাড়ছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং আমাদের তাদের পাশে থাকতে হবে।" তিনি জানান, নিকো পাজ ১৭ আগস্ট দলে ফিরবেন। লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা কম হলেও ফ্যাব্রেগাস তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনও করতে পারেন।

