ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের হিজাব পরিধানের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলা বিতর্কিত আলোচনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির প্রধান মুসলিম প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অফ মুসলিম ফেইথ (সিএফসিএম)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই ধরনের মন্তব্যকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন' হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের বক্তব্য হিজাব পরিহিত নারীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার পথ প্রশস্ত করছে।
কাউন্সিলটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, হিজাব পরিহিত নারীদের চরমপন্থী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে তারা প্রত্যাখ্যান করে। সিএফসিএম-এর মতে, যারা এই ধরণের উসকানিমূলক বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছেন, তারা এর রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় এড়াতে পারেন না। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, হিজাব কেবল সমসাময়িক চরমপন্থী মতাদর্শের ফসল নয়, বরং ইহুদি, খ্রিস্টান এবং ইসলাম ধর্মের ঐতিহ্যেও মাথা ঢাকার বিভিন্ন রীতি বিদ্যমান রয়েছে।
সিএফসিএম-এর দাবি, হিজাব পরিধান করা বা না করা একজন নারীর ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় পছন্দের বিষয়। তাদের ভাষ্যমতে, হিজাব বেছে নেওয়া কোনো নারীকে, যিনি এটি পরছেন না তার মতোই সমানভাবে সুরক্ষা দেওয়া এবং তার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো প্রয়োজন। সংস্থাটি আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, হিজাব নিষিদ্ধ করার যেকোনো উদ্যোগ ফ্রান্সের সংবিধান স্বীকৃত বিবেক, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নির্বাচন সামনে রেখে নারীদের পোশাক নিয়ে এই ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ককে সিএফসিএম 'বিভাজন সৃষ্টিকারী' বলে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে পোশাক নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে। এর পরিবর্তে ফ্রান্সের বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ—যেমন সন্ত্রাসবাদ, অপরাধ, মাদক চোরাচালান, সহিংসতা এবং অনিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি 'দায়িত্বশীলতা ও সংযম' প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে সিএফসিএম বলেছে, নির্বাচনী কৌশলের কারণে লাখ লাখ ফরাসি নাগরিককে জিম্মি করা উচিত নয়। সংস্থাটি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের মূল্যবোধ বজায় রেখে গঠনমূলক বিতর্কে অংশ নেন এবং মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না করার জন্য সতর্ক করেন।

