ভারতের বিপক্ষে গালে টেস্টে ১৬৫ রানের বড় ব্যবধানে হারলেও ইতিবাচক মনোভাব ধরে রাখছেন শ্রীলঙ্কা পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ গ্যারি কার্স্টেন। তাঁর মতে, শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলটি ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট ‘কাঠামো’ বা রূপ পেতে শুরু করেছে এবং খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে উঠছেন।
কার্স্টেনের অধীনে শ্রীলঙ্কা দল এখনও কোনো টেস্ট ম্যাচ জিততে পারেনি। তাঁর অধীনে খেলা তিন টেস্টের মধ্যে দুটিতেই হেরেছে লঙ্কানরা, যার মধ্যে গত জুনে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারও রয়েছে। তবে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও হতাশ নন এই প্রোটিয়া কোচ। আসলে ঘরের মাঠে দীর্ঘ ১৪ মাস পর এটিই ছিল শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট। এমনকি জুনের আগে টানা ১২ মাস তারা কোনো টেস্ট ম্যাচই খেলেনি।
টেস্ট ক্রিকেটের ঘাটতি নিয়ে কার্স্টেন বলেন, যখন আপনি পর্যাপ্ত টেস্ট খেলবেন না, তখন কীভাবে খেলতে হবে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। গত কয়েক মাসে এটি আমাদের তৃতীয় টেস্ট এবং আমি ইতিমধ্যেই দলের উন্নতি দেখতে পাচ্ছি। আমরা দলে একটি রূপ বা কাঠামো তৈরি করতে শুরু করেছি, তবে কোনো এক পর্যায়ে আমাদের এটিকে পারফরম্যান্সে রূপান্তর করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, টেস্টে ধারাবাহিকভাবে ২০টি উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। পেস ও স্পিন—উভয় বিভাগেই প্রতিপক্ষকে অলআউট করার সামর্থ্য অর্জন করা জরুরি। এই টেস্ট স্কোয়াডটিকে গড়ে তোলা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টেই প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে ব্যর্থ হয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তবে গালের বোলিং-সহায়ক উইকেটে তারা ভারতের ২০টি উইকেটই তুলে নিতে পেরেছে। কার্স্টেনের মতে, শ্রীলঙ্কা মূলত ম্যাচটি হেরেছে তাদের টপ-অর্ডার ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতার কারণে। প্রথম ইনিংসে ৯০ রানে ৫ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিকরা। বিপরীতে ভারত তাদের প্রথম ইনিংসে ৪৬০-এর বেশি রান সংগ্রহ করে দারুণ ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখায়।
তবে লঙ্কান বোলারদের পারফরম্যান্সে বেশ সন্তুষ্ট কার্স্টেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতকে ১৯৩ রানে অলআউট করার বিষয়ে তিনি বলেন, গতকাল বল হাতে ছেলেরা দারুণ কাজ করেছে। ৫০ ওভারের কম সময়ে ১০ উইকেট নেওয়া সত্যিই চমৎকার একটি প্রচেষ্টা। আমরা যদি আরও দু-একটি ক্যাচ নিতে পারতাম, তবে লক্ষ্যটা হয়তো ৩০০ রানের কাছাকাছি থাকত, যা ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারত।
আগামী আট মাসে শ্রীলঙ্কার সামনে রয়েছে ব্যস্ত টেস্ট সূচি, যা দলকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন কার্স্টেন। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবে (এসএসসি) ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের পর বছরের শেষ দিকে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে শ্রীলঙ্কা। এছাড়া আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে তারা।
আধুনিক ক্রিকেটারদের জন্য টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে কার্স্টেন বলেন, শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো তারা পর্যাপ্ত টেস্ট খেলার সুযোগ পায় না। অন্তত এখন আগামী ছয় মাসের মধ্যে আমাদের আরও ছয়টি টেস্ট রয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের আবহে থাকা এবং কীভাবে রান করতে হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট করে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে হয়, তা বোঝার জন্য এটি দারুণ সুযোগ।

