রাশিয়া ও উগ্রপন্থীদের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জার্মানি। বিদেশি শক্তির সাইবার হামলা ও অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা নিষ্ক্রিয় করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার জার্মানির মন্ত্রিসভা একটি খসড়া আইন অনুমোদন করেছে। এর লক্ষ্য দেশটির বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা 'বিএনডি' (BND) এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা 'বিএফভি' (BfV)-কে শক্তিশালী করা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটি যাতে মিত্র দেশগুলোর দেওয়া তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে পারে, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক কারণে জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা অন্যান্য প্রধান ইউরোপীয় দেশের তুলনায় বেশ সীমিত ছিল। নাৎসি আমল এবং পরবর্তীতে কমিউনিস্ট শাসিত পূর্ব জার্মানির গোপন পুলিশের দমন-পীড়নের স্মৃতির কারণে আধুনিক জার্মানি সাধারণত তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের চিফ অব স্টাফ নিনা ওয়ার্কেন বলেন, "বর্তমানে জার্মানি ক্রমাগত বিদেশি শক্তির হাইব্রিড হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে এবং এটি একটি বাস্তব ও অত্যন্ত তীব্র বিপদ। আমরা অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর বড্ড বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি এবং বর্তমানে এই সহায়তা অনেক ক্ষেত্রেই একমুখী হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট বলেন, "আমরা আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রকৃত গোয়েন্দা সংস্থায় রূপান্তর করছি।" তিনি আরও যোগ করেন, জার্মানিকে এমন গোয়েন্দা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সমকক্ষ হতে পারে। ডোব্রিন্ডটের মতে, জার্মানি প্রতিদিন বিদেশি শক্তির গুপ্তচরবৃত্তি, অন্তর্ঘাত, সাইবার হামলা এবং গোপন তৎপরতার শিকার হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য দেশটিকে অস্থিতিশীল ও ক্ষতিগ্রস্ত করা।
প্রস্তাবিত এই সংস্কারের আওতায়, যা বাস্তবায়নে এখনও সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিভাইসে প্রবেশ ও তথ্য সংরক্ষণের বাড়তি ক্ষমতা পাবে। গোয়েন্দা তদারকির দায়িত্বে থাকা ওয়ার্কেন জানান, সংস্থাগুলো এখন থেকে 'সক্রিয় পদক্ষেপ' নিতে পারবে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, বিএনডি চাইলে সন্দেহজনক চালানের যন্ত্রাংশ ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ দিয়ে বদলে দিতে পারবে, ড্রোন কারখানা বা রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণাগারের আইটি সিস্টেমে প্রবেশ করে সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে পারবে, অথবা বিদেশি রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত হ্যাকার ও অপপ্রচারকারীদের সার্ভার বন্ধ করে দিতে পারবে। এছাড়া বিস্ফোরক দ্রব্য সরিয়ে সেখানে ক্ষতিকর নয় এমন পদার্থ প্রতিস্থাপনের সুযোগও থাকবে বলে জানান ডোব্রিন্ডট।
এই সংস্কারের পরিকল্পনা বেশ কয়েক মাস ধরেই চলছিল। সম্প্রতি লাইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বোঝাই একটি ড্রোন উদ্ধারের পর জার্মানির নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং এর পেছনে কারা ছিল তা কর্তৃপক্ষ এখনও প্রকাশ করেনি। যদিও কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার সন্দেহজনক তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

