জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, ইহুদি নববর্ষের ছুটির সময় প্রায় ৬০০ অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুপ্রবেশ করেছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি সুরক্ষায় মর্ক্কান গেট বা বাব আল-মাগারিবা দিয়ে সকাল ও বিকেলের সেশনে মোট ৫৯৩ জন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী এই পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে।
গভর্নরেটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই অনুপ্রবেশের পাশাপাশি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের মসজিদে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। রবিবার ফজরের নামাজের সময় ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে শুধুমাত্র হুট্টা ও চেইন গেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া, চেকপয়েন্টে দায়িত্বরত সেনারা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বয়সের সীমা নির্ধারণ করে দেয় এবং অনেককে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়, যার ফলে শত শত ফিলিস্তিনি বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরের গেটে নামাজ আদায় করেন।
ইসরায়েলের উগ্রবাদী টেম্পল গ্রুপগুলো ছুটির মৌসুমে আল-আকসায় গণহারে পরিদর্শন ও ধর্মীয় আচার পালনের ডাক দিয়েছিল। জেরুজালেম গভর্নরেট সতর্ক করে বলেছে, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সেখানে ধর্মীয় আচার পালনের চেষ্টা করছে এবং এই পবিত্র স্থানের ঐতিহাসিক ও ইসলামি মর্যাদা পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরির পাঁয়তারা করছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৫০টি বার্নিং অর্ডার বা প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে জর্ডান নিয়ন্ত্রিত ইসলামিক ওয়াকফ বোর্ডের আপত্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলি পুলিশ নিয়মিতভাবে বসতি স্থাপনকারীদের এই অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করে আসছে।
আল-আকসায় এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের তীব্র গতির সাথে মিলে গেছে। ফিলিস্তিনি কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ১৮ হাজারেরও বেশি আবাসন ইউনিট তৈরির লক্ষ্যে ১৫৩টি পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি পরিকল্পনায় ১২ হাজার ৩০০টি ইউনিট পশ্চিম তীরে এবং ৫৩টি পরিকল্পনায় ৫ হাজার ৭৮৩টি ইউনিট পূর্ব জেরুজালেমে নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ১০৪টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে, যা ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

