গাজায় গত কয়েকদিনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখলকৃত এলাকা সম্প্রসারণের ফলে নতুন করে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ও আশ্রয়স্থল ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, ইসরায়েলি বাহিনী গত ১০ দিনে তথাকথিত 'হলুদ রেখা' বা সামরিক সীমানা সামনে এগিয়ে এনেছে, যা নতুন করে বাস্তুচ্যুতির এই ঢেউ তৈরি করেছে।
গাজা শহরের জেইতুন এলাকা, দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস, তুফাহ, শেজাইয়া এবং উত্তর রাফার বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন উচ্ছেদ আদেশের পর তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। জেইতুন এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ইসরায়েলি যুদ্ধের শুরু থেকে এটি তার পরিবারের জন্য সপ্তম বা অষ্টম বারের মতো বাস্তুচ্যুতির ঘটনা।
জেইতুনসহ গাজার অন্তত পাঁচটি স্থানে এই সীমানা পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। বাসিন্দারা এবং হামাস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবর মাসে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় যে সামরিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা এখন ইসরায়েল অগ্রাহ্য করে সামনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এপ্রিলের শেষ নাগাদ গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২৮ মে জানিয়েছিলেন যে, গাজা ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) ২০ জুলাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেইতুনে ইসরায়েলি উচ্ছেদ আদেশের কারণে ৩০টি পরিবার তাদের তাঁবু ছাড়তে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে সেই তাঁবুগুলো ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

