জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলীয়া মাদরাসা এবং গত ৩ আগস্ট রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, ছাত্রসংসদের নির্বাচিত ভিপি, কার্যনির্বাহী সদস্য, ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করে আধিপত্য বিস্তারের কৌশল নিয়েছে। এর ফলে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের সশস্ত্র হামলায় অনেকেই রক্তাক্ত হয়েছেন। আহত শিক্ষার্থীরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে ঢুকেও তাদের ব্যাট ও রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং তারা আহত শিক্ষার্থীদের রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জামায়াত অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের হামলায় আহতদের দেখতে রাজধানীর কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ, ইট ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। ফুটেজ দেখে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

