জাপানে সরকারি সংস্থা ও বড় বড় কোম্পানিগুলোর ওপর একের পর এক বড় ধরনের সাইবার হামলা এবং তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর সরকার একটি জরুরি সাইবার নিরাপত্তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার টোকিওতে এক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি এই বৈঠকে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক হামলার এই যুগে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত সাড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
তাকাচি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে অননুমোদিত প্রবেশ ও তথ্য চুরির ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং করপোরেট কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সরকারের সকল সম্পদ কাজে লাগিয়ে জাপানের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ মান অর্জন করা।
নতুন এই কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার হ্যাকারদের ব্যবহৃত সার্ভারে প্রবেশ করার সক্ষমতা বাড়াবে, যা ‘অ্যাক্টিভ সাইবার ডিফেন্স’ বা সক্রিয় সাইবার প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিচিত। গত অক্টোবর মাসে এই ব্যবস্থাকে আইনগত বৈধতা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় কোনো হুমকি দেখা দিলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় পুলিশ সংস্থা এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা অফিসের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সহায়তা দল মোতায়েন করা হবে।
এই প্যাকেজের আওতায় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় নভেম্বরের শেষ নাগাদ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি ‘টপ গান’ টিম গঠন করবে। এই টিমের সদস্যরা হ্যাকারদের মোকাবিলা এবং নেটওয়ার্ক সিস্টেমের দুর্বলতা শনাক্ত করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন। এছাড়া তারা জাপানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক রাখতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর উন্নত এআই ডেভেলপারদের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখবেন।
পাশাপাশি সাইবার হামলার শিকার কোম্পানিগুলোকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি ‘সাইবার রেসকিউ টিম’ গঠন করা হবে। এছাড়া আলাদা আরেকটি দল দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

