নির্বাচন পরবর্তী মার্কিন প্রশাসনের রদবদল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের পদ থেকে সরে যাচ্ছেন—এমন খবরকে হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট 'ভুয়া খবর' বলে অভিহিত করেছে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী পরাজয়ের জন্য পিট হেগসেথকে দায়ী করে তাকে সরানোর দাবি উঠেছে। এমনকি কংগ্রেসের একজন বিদায়ী রিপাবলিকান সদস্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার হুমকি দিয়েছেন। জবাবে হেগসেথ এক ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে কারণ তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, 'আমরা পিছু হটব না।'
প্রতিরক্ষা সচিবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিশংসনের এই প্রচেষ্টাকে তিনি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি তার অধীনে সামরিক নিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্য বিষয়ক উদ্যোগগুলো বন্ধ করার মতো অর্জনগুলোর কথা তুলে ধরেন। রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে হেগসেথের অভিশংসনের জন্য তার পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হবেন এবং নতুন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস গঠনের আগেই তাকে সরানোর জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পদত্যাগ করতে পারেন বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা অস্বীকার করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেছেন, মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করাই তার পরিকল্পনা ছিল এবং তিনি বর্তমানে নিজের কাজে সন্তুষ্ট।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি এসেছে, তবে তিনি তাকে স্বপদে রাখার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, পিট হেগসেথ চমৎকার কাজ করছেন। এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়গুলোকে হেগসেথের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
এরই মধ্যে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন অথবা সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। ইরান যুদ্ধের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বড় ভূমিকা ছিল।

