কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেসন আরডে-র মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভের এক বিশাল ঢেউ তৈরি হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ট্রাফালগার স্কোয়ারে আয়োজিত প্রতিবাদী ভিজিলে হাজারো মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। তার পরিবার এক বিবৃতিতে তাকে একজন অসাধারণ বাবা, সঙ্গী, ভাই, চাচা ও সন্তান হিসেবে স্মরণ করেছে। তারা জানিয়েছে, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এক পরিকল্পিত অপপ্রচারের শিকার হয়েছিলেন।
পরিবারের মতে, আরডে-র মতো একজন সফল কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করাটা ছিল ডানপন্থী ও অতি-ডানপন্থীদের এক পরিকল্পিত কৌশল। তারা এমন কাউকে খুঁজছিল যাকে ব্যবহার করে তাদের ন্যাটভিস্ট বা জাত্যভিমানী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যায়। গ্রীষ্মের অলস সময়ে যখন খবর কম থাকে, তখন আরডে-র মুখচ্ছবি বারবার সংবাদপত্রের শিরোনাম ও টিভি পর্দায় প্রদর্শিত হয়েছে। পরিবার জানায়, নিউরোডাইভারজেন্ট বা স্নায়বিক বৈচিত্র্যময় এই ভদ্র মানুষটি এই ক্রমাগত অপপ্রচার সহ্য করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
এই ঘটনাটি উচ্চ আবেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক মানুষ তার দয়া ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তার যত্নের কথা স্মরণ করেছেন। তবে বিতর্কের অন্য একটি দিকও আছে। ডানপন্থী গণমাধ্যমগুলো আরডে-র একাডেমিক কাজের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, বিশেষ করে প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এনেছিল। অধ্যাপক নিজে তার জীবন ও অর্জন সম্পর্কে যেসব দাবি করেছিলেন, সেগুলোর অনেক কিছুই যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অনেকে মনে করেন, এগুলো কেবল বর্ণবাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ ছিল না, বরং একাডেমিক সততা রক্ষার খাতিরেও কিছু প্রশ্ন তোলা জরুরি ছিল।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একজন কৃষ্ণাঙ্গ সাংবাদিকের অবস্থান সবসময়ই চাপের। অনেক সময় তাদের কাজ ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস একই বিন্দুতে মিলে যায়, তবে সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট বা আন্দোলনকর্মীর মধ্যে পার্থক্য থাকা জরুরি। সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য তুলে ধরা, তা যতই অপ্রিয় হোক না কেন। আরডে-র ক্ষেত্রে যারা পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তার একাডেমিক দাবির সত্যতা যাচাই করেছিলেন, তারাও এখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড ক্রিস স্মিথ এই পরিস্থিতিকে 'বর্ণবাদী ফিডিং ফ্রেনজি' বা বর্ণবাদী উন্মাদনা বলে অভিহিত করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি সাংবাদিকরা এই দাবিগুলো খতিয়ে না দেখতেন, তবে কি সব দায়ভার কেবল ডানপন্থী সংস্কৃতি যোদ্ধাদের হাতেই থাকত? জেসন আরডে-র মৃত্যুতে এখন একটি সরকারি তদন্তের দাবি উঠছে। তবে তার শোকের সময়ে কাউকে আঙুল তোলার আগে একটু ভেবে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

