সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন জানিয়েছেন, তার স্বামী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আক্রমণাত্মক প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার আগে তিনি একটি উদ্বেগজনক শারীরিক লক্ষণ লক্ষ্য করেছিলেন। জিল বাইডেন জানান, জো বাইডেন রাতে সাতবার পর্যন্ত বাথরুমে যেতেন, যা তার ক্যানসার ধরা পড়ার একটি পূর্বাভাস হতে পারে।
গত ৫ আগস্ট, বুধবার সিরিয়াসএক্সএম-এর 'লেটস টক অফ ক্যামেরা উইথ কেলি রিপা' অনুষ্ঠানে জিল বাইডেন এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। তিনি জানান, হোয়াইট হাউসে থাকাকালীনই তিনি তার স্বামীর এই ঘন ঘন রাতে বাথরুমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। জিল বাইডেন বলেন, তখন তার মনে হয়েছিল বিষয়টি সম্ভবত পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সমাধান করা হয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও যখন এই সমস্যাটি অব্যাহত থাকে, তখন জিল বাইডেন তার স্বামীকে পুনরায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে জোর দেন। তিনি বলেন, 'হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার পরও যখন সমস্যাটি চলতেই থাকল, আমি তখন জো-কে বললাম, আমাদের ফিলাডেলফিয়ায় জেফের কাছে যেতেই হবে, কিছু একটা অবশ্যই ভুল হচ্ছে।'
৮৩ বছর বয়সী জো বাইডেনের প্রোস্টেটে একটি নডিউল পাওয়ার পর ২০২৫ সালের মে মাসে তার ক্যানসার ধরা পড়ে। তার দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার সময় সেটি হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। জিল বাইডেন জানান, ক্যানসারটি মেটাস্ট্যাসিস বা ছড়িয়ে পড়ার কারণে এটি নিয়মিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে রাখতে হচ্ছে। তিনি কেলি রিপার কাছে বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর পরীক্ষা ও ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে ছেলে বিউ বাইডেনের ক্যানসারের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি জানেন এটি কতটা চ্যালেঞ্জিং ও নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া। উল্লেখ্য, বিউ বাইডেন ২০১৫ সালে ৪৬ বছর বয়সে ব্রেইন ক্যানসারে মারা যান।
এর আগে সিবিএস-এর 'সানডে মর্নিং' অনুষ্ঠানে জিল বাইডেন বলেছিলেন, হোয়াইট হাউসে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরও এমন রোগ ধরা পড়াটা ছিল চমকে দেওয়ার মতো। তিনি জানান, তাকে বলা হয়েছিল আমেরিকান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ অনুযায়ী ৭০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য সাধারণত নিয়মিত প্রোস্টেট ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজন নেই, কারণ এই রোগ ধীরগতিতে বাড়তে পারে।
ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর মে মাসে জো বাইডেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তিনি ভালো বোধ করছেন এবং চিকিৎসকরা আশা করছেন চিকিৎসা কার্যকর হবে। তিনি বলেছিলেন, আগামী ছয় সপ্তাহ একটি নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তিনি এই রোগ জয় করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। বর্তমানে তিনি রেডিয়েশন ও হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এবং আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৮ জন পুরুষের মধ্যে একজনের জীবনে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

