সম্প্রতি ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন অভিনেতা জন গুডম্যানের ওজন কমানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ওজন কমানোর পেছনে ওজেম্পিকের (Ozempic) মতো ওষুধের ব্যবহারকে অনেকে 'প্রতারণা' বলে আখ্যা দিচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থূলকায় মানুষদের প্রতি সমাজের নিষ্ঠুর ও দ্বিচারিতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
জন গুডম্যানের ওজন কমানো নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা ভাগে তর্ক চলছে। একদল তাঁর এই পরিবর্তনের জন্য কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করছেন। অন্যদলের দাবি, তিনি ওজেম্পিক ব্যবহার করে সহজে ওজন কমিয়েছেন এবং এটি কোনো প্রকৃত পরিশ্রম নয়। আবার আরেক দল গুডম্যানের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলছেন, তিনি বছরের পর বছর ধরে ওজন কমাচ্ছেন, তাই তিনি "সঠিক উপায়ে" এটি করেছেন।
এই বিতর্কের সূত্র ধরে উঠে এসেছে স্থূলকায় মানুষদের প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হওয়া সামাজিক যন্ত্রণার কথা। সমাজ সবসময় মোটা মানুষদের ওজন কমানোর জন্য চাপ দেয়। মোটা হওয়াকে অলসতা, অসুস্থতা এবং নৈতিক স্খলন হিসেবে দেখা হয়। অথচ সেই মানুষটিই যখন জিমে যান বা রাস্তায় দৌড়ান, তখন তাকে নিয়ে উপহাস করা হয়। আবার যদি কেউ ওষুধের সাহায্যে ওজন কমান, তখন বলা হয় তিনি সহজে পার পেয়ে গেছেন, পরিশ্রম করেননি। যদি কেউ মোটা শরীর নিয়েও সুখী থাকেন, তবে সমাজ তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার অজুহাতে মানসিক রোগী সাজাতে চায়।
ওষুধ ব্যবহার করে ওজন কমানোকে অনেকে 'প্রতারণা' বলে আখ্যা দেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ওজন কমানোর মাধ্যমে একজন স্থূলকায় মানুষ কার সাথে প্রতারণা করছেন? ধূমপানের উদাহরণ টেনে বলা যায়, কেউ যখন ওষুধ খেয়ে ধূমপান ত্যাগ করেন, তখন কেউ তাকে 'প্রতারক' বলে না। সেখানে ওষুধকে একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু স্থূলকায় মানুষের ক্ষেত্রে সমাজ হঠাৎ করেই নৈতিকতার বিচারক হয়ে ওঠে।
সমাজ স্থূলকায় মানুষদের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ করাকে তাদের যোগ্যতার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলেছে। এখন যখন বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়েছে, তখন সমাজ ওজন নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে ব্যক্তিটি ওজন কমাতে গিয়ে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সমাজ স্থূলকায় মানুষদের মোটা থাকার জন্যও ঘৃণা করে, আবার রোগা হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা মূলত চায় স্থূলকায় মানুষরা সবসময় কষ্টের মধ্যে থাকুক।
এটি কেবল ওজন কমানোর ওষুধের বিষয় নয়। সবারই ওজেম্পিক নেওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যে রোগা অথচ আরও রোগা হওয়ার জন্য এটি নিচ্ছেন, তাদের নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মোটা হওয়া ভালো বা খারাপ কোনোটিই নয়। স্থূলকায় মানুষদেরও সাধারণ মানুষ হিসেবে বাঁচার অধিকার রয়েছে। তাদের শরীর নিয়ে সমাজের নাক গলানো বন্ধ করা উচিত।

