শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে ভারতীয় দলের রিস্টস্পিনার কুলদীপ যাদবের বোলিং ছন্দ এবং একাদশে তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গাল টেস্টে তাঁর পারফরম্যান্স এবং বোলিং অ্যাকশনে কিছু সম্ভাব্য ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা তাঁর কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
কুলদীপ যাদব সাধারণ কোনো রিস্টস্পিনার নন। বল বড় টার্ন করানোর পাশাপাশি লেন্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং পেস ও ট্র্যাজেক্টরির সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি ব্যাটারদের প্রতিনিয়ত পরাস্ত করতে পারেন। তবে গাল টেস্টে কেবল প্রথম ইনিংসের প্রথম স্পেলে তাঁকে চেনা ছন্দে দেখা গিয়েছিল। সেখানে ৫ ওভার বল করে ১৬ রান দিয়ে তিনি কামিন্দু মেন্ডিসের উইকেটটি নিয়েছিলেন। এরপর শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের সুইপ শট খেলার আক্রমণাত্মক প্রবণতা তাঁর লাইন ও লেন্থের নিয়ন্ত্রণকে কিছুটা এলোমেলো করে দেয়।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাঁহাতি ব্যাটার সোনাল দিনুশার বিপক্ষে কুলদীপ রাউন্ড দ্য উইকেট বল করেন এবং ওই ইনিংসে তাঁর ৬৬টি বলের মধ্যে ২৯টিই ছিল এই অ্যাঙ্গেল থেকে। এই অ্যাঙ্গেল থেকে বল করার সময় এলবিডব্লিউর সুযোগ প্রায় না থাকলেও তাঁর টার্ন ৪.৫ ডিগ্রি থেকে বেড়ে ৬ ডিগ্রিতে পৌঁছায় এবং বোলিং অ্যাকশনেও বেশি গতি দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মশালায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে কুলদীপের শরীরের উপরিভাগ উইকেটের সাথে নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ ছিল। কিন্তু গালেতে বোলিং করার সময় তাঁর অ্যাকশন অনেক বেশি ওপেন-চেস্টেড ছিল এবং শরীর ডানহাতি ব্যাটারের লেগ সাইডের দিকে হেলে পড়ছিল। এই অ্যালাইনমেন্টের সমস্যার কারণে হয়তো বলের ওপর পর্যাপ্ত ঘূর্ণি দিতে এবং সঠিক জায়গায় বল পিচ করাতে তাঁর সমস্যা হচ্ছে।
এর পেছনে স্পোর্টস হার্নিয়া অস্ত্রোপচারের পর পুরোপুরি ছন্দ ফিরে না পাওয়া অথবা ম্যাচ অনুশীলনের অভাব কাজ করতে পারে। গত ৮ জুন থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে কুলদীপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র ১০ ওভার বল করেছেন। এছাড়া ইয়র্কশায়ারের হয়ে মেট্রো ব্যাংক ওয়ান-ডে কাপে ৪৬.৫ ওভার এবং প্রস্তুতি ম্যাচে ১৮ ওভার বল করেছিলেন। গাল টেস্টেও তিনি মাত্র ২৫ ওভার বল করার সুযোগ পান, যেখানে মানব সুথার ৪৫.২ ওভার এবং রবীন্দ্র জাদেজা ৪৪ ওভার বল করেছেন। নতুন ও শক্ত বল না পাওয়াটাও তাঁর জন্য একটি বড় অসুবিধা ছিল।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ নাগাদ কুলদীপ ১২ টেস্টে ২১.০৫ গড়ে ৫৩টি উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর থেকে ৭ টেস্টে ২৭.৮৮ গড়ে তাঁর উইকেট ২৭টি। এই সময়ে অন্তত ৫টি টেস্ট খেলা ভারতীয় স্পিনারদের মধ্যে তাঁর স্ট্রাইক রেট (৪৩.৯) সবচেয়ে ভালো এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের (২৭.০০) পর গড়ও দ্বিতীয় সেরা।
কুলদীপের দলে থাকা নিয়ে ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে বলেন, দল নির্বাচন পুরোপুরি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কন্ডিশন অনুযায়ী সঠিক কম্বিনেশন বেছে নেওয়া হবে। কুলদীপ সবসময়ই একজন ম্যাচ উইনার এবং তিনি অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনায় আছেন। নরম বল দিয়ে বল করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাহুতুলে জানান, নরম বলের কারণে রিস্টস্পিনারদের জন্য গ্রিপ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যেখানে ফিঙ্গার স্পিনাররা আঙুল ব্যবহার করে সহজেই গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে একটি ম্যাচ দিয়ে কুলদীপের সামর্থ্য বিচার করা ঠিক হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
৩১ বছর বয়সী এই স্পিনারের জন্য কলম্বো টেস্টে বাদ পড়াটা হবে দুর্ভাগ্যজনক। ভারতের মতো স্পিন-সমৃদ্ধ দেশে দলে জায়গা ধরে রাখা কঠিন হলেও, কুলদীপের মতো বৈচিত্র্যময় আক্রমণাত্মক বোলারকে ছন্দে রাখা এবং দলে তাঁর গুরুত্ব বোঝানো ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

