অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার মারনাস লাবুশেনের টেস্ট ক্যারিয়ার এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। ম্যাকে টেস্টের প্রথম দিনে তার বিদায়টি ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্ত। মাত্র ২৬ মিনিট ক্রিজে থেকে ৯ বল মোকাবিলা করে ৪ রান করা লাবুশেন আউট হওয়ার পর বারবার তার ভেঙে পড়া উইকেটের দিকে তাকাচ্ছিলেন, যেন নিজের দুর্ভাগ্যকে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। মিডল স্টাম্পে আঘাত করা বলটি তার থাই গার্ডের নিচের অংশ থেকে লেগে উইকেটে আঘাত করেছিল। তিনি প্রায় আধা মিনিট ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যেন আশা করছিলেন বেইলটি আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে। এমনকি তিনি পিচের দিকে ফিরে তাকিয়েছিলেন, যেন মনে হচ্ছিল কোনো বাংলাদেশি ফিল্ডার তাকে দুর্ভাগ্যজনক আউটের কারণে আবার ডেকে নেবেন।
ম্যাকেতে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক টেস্টের প্রথম দিনটি লাবুশেনের জন্য ছিল তার হারানো ফর্ম ফিরে পাওয়ার এক মরিয়া প্রচেষ্টা। তিনি তার পুরনো সব অভ্যাসগুলো আবার ফিরিয়ে এনেছিলেন—বল খেলার আগে বেইল চেক করা, বোলারদের চোখের দিকে সরাসরি তাকানো কিংবা স্টিভ স্মিথের মতো অতিরঞ্জিত হাতের ভঙ্গি করা। এমনকি তাসকিন আহমেদের বল ডিফেন্ড করার পর তার ট্রেডমার্ক 'নো রান' চিৎকারও শোনা গিয়েছিল। হ্যারাপ পার্কে অনুশীলনের সময় তাকে নিজেকে বলতে শোনা গিয়েছিল যে, তিনি ক্রিকেটকে খুব কঠিন করে ফেলছেন। টেকনিক্যাল পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি তার সেরা সময়ের অভ্যাসগুলো ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ম্যাকে টেস্টের এই দিনটি ছিল উইকেট পতনের মিছিলের সাক্ষী। বল মুভমেন্ট এবং সিম মুভমেন্টের কারণে বোলাররা বেশ সুবিধা পেয়েছেন। তবে ১৮টি উইকেট পতনের এই দিনে মিচেল স্টার্ক ও শরিফুল ইসলাম দুজনেই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন, যারা একাই ১২টি উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন। ম্যাট রেনশর পারফরম্যান্সও দলের জন্য আশাব্যঞ্জক ছিল না।
অস্ট্রেলিয়া ১০১ রানে এগিয়ে থাকলেও, দলের ব্যাটিং দুর্বলতা স্পষ্ট। প্রধান কোচ ও নির্বাচক অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড লাবুশেনের কাছে বড় ইনিংস আশা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থতা তার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্যারিয়ারের এই সময়ে যেখানে তার ফর্ম তুঙ্গে থাকার কথা ছিল, সেখানে তিনি এখন টেস্ট দলে নিজের জায়গা ধরে রাখা নিয়েই লড়াই করছেন।

