কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোকে 'বহুগুণ' বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) চেয়ার লিনা খান। মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের আইনপ্রণেতাদের সামনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চ্যাটজিপিটির (ChatGPT) মতো বিভিন্ন এআই টুলস ইমেইল, প্রবন্ধ, গল্প, ছবি, অডিও এবং ভিডিও তৈরির সক্ষমতা দেখিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। লিনা খান বলেন, এই প্রযুক্তি মানুষের কাজের ধরন বদলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতারণার কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রযুক্তি খাতের এই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে এফটিসি তাদের প্রয়োগিক ক্ষমতা খাপ খাইয়ে নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কমিশনার রেবেকা স্লটার। তিনি বলেন, 'আমাদের দায়িত্ব হলো প্রযুক্তির এই বিপ্লব দেখে ভয় না পেয়ে আমাদের হাতে থাকা বিদ্যমান আইনি সরঞ্জামগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করা।'
এফটিসি কমিশনার আলভারো বেদোইয়া এ প্রসঙ্গে স্পষ্টভাবে জানান যে, কোনো কোম্পানি তাদের অ্যালগরিদমকে 'ব্ল্যাক বক্স' বলে দায় এড়াতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, 'আমাদের অসাধু ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনি ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া নাগরিক অধিকার আইন এবং ফেয়ার ক্রেডিট ইকুয়াল ক্রেডিট অপরচুনিটি অ্যাক্টের মতো আইনগুলো এআই কোম্পানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে।'
এআই খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য এফটিসি ইতিমধ্যে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করেছে। এছাড়া চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই (OpenAI) গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে কি না—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুরোধও গত মাসে পেয়েছে সংস্থাটি।

