আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই ম্যাচে নিজের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া লিটন দাস মনে করেন, উইকেটকিপিং তার ব্যাটিংয়ে দারুণভাবে সাহায্য করছে। লিটন বলেন, উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনি পিচ এবং কন্ডিশন সম্পর্কে যে ধারণা পান, তা তার ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। উইকেটকিপিংয়ের এই অভিজ্ঞতা তাকে পিচের আচরণ বুঝতে সাহায্য করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ম্যাচে ১১৭ বলে ১০২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন লিটন। ১৪টি চারের সাহায্যে সাজানো এই সেঞ্চুরির পথে তিনি ১৪ ও ২৬ রানে জীবন পাওয়ার পাশাপাশি ৪৬ রানে রান-আউট হওয়ার সম্ভাবনা থেকেও বেঁচে যান। শেষ পর্যন্ত ১১৫ বলে নিজের শতক পূর্ণ করেন তিনি। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজের (অপরাজিত ৫২) সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন লিটন। এর আগে সিরিজের আগের ম্যাচগুলোতে টানা তিনবার শূন্য রানে আউট হলেও এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ফিফটি করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ইনিংস ৩৭২ রানে ঘোষণার পর আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের শেষ দিন নিয়ে লিটন বলেন, পিচ খুব বেশি স্পিন-সহায়ক না হলেও পঞ্চম দিনে রাফ থেকে বল ঘুরতে পারে। তিনি আশা করছেন, বোলাররা সঠিক জায়গায় বল করে চাপ সৃষ্টি করলে এবং পিচ থেকে সামান্য সহায়তা পেলে জয় পাওয়া সহজ হবে।
এদিকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তান ১৩২ রান করেছে ৩ উইকেট হারিয়ে। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ৩৪৭ রান। ক্রিজে অপরাজিত আছেন সেদিকুল্লাহ আতাল (৩৫) ও হাশমতউল্লাহ শাহিদী (১৯)। আতাল জানান, ম্যাচটি ড্র করার লক্ষ্য নিয়ে তারা শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে চান। বাংলাদেশের ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ আফগানিস্তানের শুরুতে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। ইবাদত প্রথম ওভারেই আব্দুল মালিককে আউট করেন এবং পরে রহমত শাহর উইকেটটিও নেন। রহমত শাহ ৫১ রান করে আউট হওয়ার আগে আতালের সঙ্গে ৮২ রানের জুটি গড়েছিলেন। ম্যাচ পরবর্তী আলোচনায় আতাল তার ব্যাটিং সঙ্গী রহমত শাহর প্রশংসা করে জানান, অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের সঙ্গে খেলা তার কাজকে সহজ করে দিয়েছে। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে নিজের শট ও খেলার ধরণ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন আতাল।

