অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের উপকূলীয় শহর ম্যাকাইয়ে আয়োজিত প্রথম টেস্টের উদ্বোধনী দিনে দেখা গেল বোলারদের চরম আধিপত্য। দিনের শুরু থেকেই উইকেট পতনের মিছিলে দুই বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক ও শরিফুল ইসলাম প্রত্যেকে তুলে নিলেন ছয়টি করে উইকেট, যার ফলে দিনটি পরিণত হলো বোলারদের এক মহোৎসবে।
ডারউইনের হারের পর অস্ট্রেলিয়া এদিন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। প্যাট কামিন্স টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠালে স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম বলেই শাদমান ইসলামকে সাজঘরে ফেরান তিনি। শুরুর সাত ওভারের মধ্যেই ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। স্টার্কের গতি ও সুইংয়ের সামনে বাংলাদেশি ব্যাটাররা অসহায় ছিলেন। তিনি মাত্র ২২ বলের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট শিকার করেন, তবে মুশফিকুর রহিমের দৃঢ়তায় হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩৫ রান সংগ্রহ করে। বিরতির পর কামিন্স দুটি এবং জশ হ্যাজলউড একটি উইকেট নিলে স্টার্ক পুনরায় আক্রমণে ফিরে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করেন। ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেওয়া স্টার্ক এই অর্জনের মাধ্যমে ডেল স্টেইনের ৪৩৯ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
এরপর ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াও বিপদে পড়ে। যদিও স্টিভেন স্মিথ এবং ক্যামেরন গ্রিন চতুর্থ উইকেটে ১০৮ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেল পরিস্থিতি বদলে দেয়। ড্রিংকস ব্রেকের ঠিক আগে স্মিথকে (৪২) এলবিডব্লিউ করে ব্রেকথ্রু এনে দেন শরিফুল। এরপরই অস্ট্রেলিয়া বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ১৪৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর শরিফুল একে একে তুলে নেন বিউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স এবং সর্বশেষ মিচেল স্টার্ককে। তিনিও স্টার্কের মতো ৬ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখান। দিনশেষে ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ৫১ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন, যা কঠিন পিচে এক অসাধারণ ইনিংস ছিল। তার কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া ১০১ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে।

