কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে পাহাড়ি ট্রেইলে হাঁটতে গিয়ে গ্রিজলি ভালুকের আকস্মিক হামলায় এক মা ও তাঁর মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বিসি কনজারভেশন অফিসার সার্ভিস (বিসিসিওএস) জানিয়েছে, মৃত দুজন হলেন ৪৮ বছর বয়সী জেনিফার ব্যালকারাস এবং তাঁর ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলহ রিড।
কানাডীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর বেলা কুলা এলাকার স্নুকা ওয়েস্ট ট্রেইলে হাঁটার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি জেনিফার ও সেলহ। স্বজনরা তাদের নিখোঁজের কথা জানালে উদ্ধার অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধানের পরদিন, অর্থাৎ ২ নভেম্বর জেনিফার ব্যালকারাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন ৩ নভেম্বর বিকেলে উদ্ধার করা হয় মেয়ে সেলহ রিডের মরদেহ। গত ৫ নভেম্বর বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিসিসিওএস কর্মকর্তা টায়ার জানান, ট্রেইলের কাছাকাছি স্থান থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ দুটি প্রায় এক মাইল দূরে পৃথক অবস্থায় পাওয়া গেছে।
বিসি কনজারভেশন অফিসার সার্ভিস ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, তদন্তকারীদের বিশ্বাস—মা ও মেয়ে উভয়েই গ্রিজলি ভালুকের আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তবে হামলাটি ঠিক কীভাবে শুরু ও পরিচালিত হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সংস্থাটি ঘটনাস্থল থেকে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রেইলটিতে মারাত্মক নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকায় এবং তদন্তের সুবিধার্থে জনসাধারণকে ওই এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কর্মকর্তা টায়ার জানান, বনাঞ্চলের ওই এলাকায় অবস্থানরত ভালুকগুলোকে খাঁচাবন্দি করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। হামলার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট প্রাণীটিকে শনাক্ত করতে ধরা পড়া ভালুকগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। টায়ার স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা যেসব ভালুক আটক করব, সেগুলোর নমুনা পরীক্ষা করে মূল্যায়ন করা হবে। যদি কোনো ভালুক এ হামলায় সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে জননিরাপত্তা রক্ষার্থে সেটিকে মেরে ফেলা হবে।" তবে এই হামলায় একটি নাকি একাধিক ভালুক অংশ নিয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া মা ও মেয়ে ভালুকের আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষায় কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন কি না, সে সম্পর্কিত প্রমাণও তদন্তকারীরা এখনো পাননি।
উল্লেখ্য, বেলা কুলা এলাকায় প্রায় এক বছর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও একটি গ্রিজলি ভালুকের ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় নদীর পাশে থামানো একটি স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দলের ওপর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে একটি ভালুক হামলা চালায়। ওই হামলায় তিন শিশু ও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরে শিক্ষকরা বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী ডিভাইস বিয়ার ব্যাঙ্গার এবং প্রতিরক্ষামূলক বিয়ার স্প্রে ব্যবহার করে ভালুকটিকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। তবে গত বছরের সেই হামলার জন্য দায়ী ভালুকটিকে পরে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক এই মা-মেয়ের মৃত্যুর পেছনে সেই পুরনো ভালুকটিই জড়িত কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তা টায়ার জানান, এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা বা অনুমান করা আগাম হয়ে যাবে।

