মায়ের মৃত্যুর পর এক অদ্ভুত একাকীত্বের মুখোমুখি হয়েছেন পলি হাডসন। ১৪ বছর আগে তার বাবা মারা গিয়েছিলেন, আর এবার মায়ের প্রস্থানে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন বা ‘অনাথ’ হিসেবে আবিষ্কার করেছেন। তবে শোকের এই কঠিন সময়ে মানুষের নানা ধরনের সান্ত্বনা ও প্রতিক্রিয়া তাকে এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করেছে, যেখানে সান্ত্বনার কিছু ক্লিশে শব্দ যেমন বিরক্তিকর, তেমনি মানুষের নীরবতা বা এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস তার চেয়েও বেশি কষ্টদায়ক।
মায়ের মৃত্যুর ঠিক পর মুহূর্তেই পলির মাথায় এসেছে মার্কিন কমেডি সিরিজ ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’-এর একটি দৃশ্য। সেখানে মার্টি ফাঙ্কহাউজার নামের এক চরিত্রের মায়ের মৃত্যুর পর সে নিজেকে ‘অনাথ’ দাবি করলে ল্যারি ডেভিড তার বয়স নিয়ে আপত্তি তোলেন। ডেভিড যুক্তি দেন যে ৭০ বা ১০০ বছর বয়সে কেউ অনাথ হতে পারে না। কিন্তু মার্টি জোর দিয়ে বলেন, বাবা-মা না থাকলে যেকোনো বয়সেই অনাথ হওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত ডেভিড তাকে ‘লিটল অরফান ফাঙ্কহাউজার’ বলে উপহাস করেন। পলি রসিকতা করে ভাবছেন, এখন তাকে শাসন করার মতো আর কেউ নেই, তাই তিনি কোনো খারাপ চক্রে জড়িয়ে পড়বেন কি না!
পলি জানান, তার মা ‘দীর্ঘ ও ভালো জীবন পেয়েছেন’—এই কথাটি তাকে প্রতিদিন অন্তত তিনবার শুনতে হচ্ছে। বাবার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১৪ বছরে তিনি শোকের এই ভাষাগুলো প্রায় ভুলেই গিয়েছিলেন। মৃত্যুর খবর জানানোর পর এক ব্যক্তির সাধারণ উত্তর ছিল, "ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই।" পলির কাছে এটিই ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও সহজ প্রতিক্রিয়া।
পলি মনে করেন, অধিকাংশ মানুষই আসলে খারাপ উদ্দেশ্যে কিছু বলেন না, তারা স্রেফ মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কীভাবে কথা বলতে হয় তা জানেন না। তবুও কিছু শব্দ তার কাছে বেশ অস্বস্তিকর লাগে। যেমন, সরাসরি ‘মারা যাওয়া’ শব্দের বদলে ‘পরলোকগমন’ বা ‘চিরনিদ্রায় শায়িত’ শব্দগুলো তার পছন্দ নয়। আবার ‘অনুগ্রহ করে আমার সমবেদনা গ্রহণ করুন’ কথাটি শুনলে তার মনে হয়, যেন সমবেদনা প্রত্যাখ্যান করার কোনো সুযোগ আছে! এছাড়া ‘আমি কী বলব বুঝতে পারছি না’ বলে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা বা ‘তোমাকে শক্ত হতে হবে’—এমন উপদেশ দেওয়াও তার অপছন্দ।
তবে পলির মতে, সবচেয়ে খারাপ প্রতিক্রিয়া হলো কোনো কথা না বলে সম্পূর্ণ নীরব থাকা। অভিনেতা রিচার্ড ই. গ্রান্টের একটি অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর গ্রান্টের কিছু পুরোনো বন্ধু তাকে রাস্তায় দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলেছিলেন। গ্রান্ট সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না এবং তাদের নিজের জীবন থেকে চিরতরে বাদ দিয়েছেন।
মানুষ সাধারণত শোকগ্রস্ত ব্যক্তির কান্না এড়াতে বা তাকে নতুন করে মনে করিয়ে না দেওয়ার অজুহাতে নীরব থাকে। কিন্তু এই নীরবতা আসলে শোককে আরও বাড়িয়ে দেয়। পলি হাডসনের মতে, সান্ত্বনা দেওয়ার ভুল শব্দ বা ক্লিশে বাক্যগুলো বিরক্তিকর হলেও, কোনো কথা না বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে তা অনেক ভালো। এমনকি অনাথ হওয়ার বয়সসীমা নিয়ে তর্ক করাও এই নীরবতার চেয়ে শ্রেয়।

