জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নাগাসাকিতে মার্কিন পারমাণবিক হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে জাপানের দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী অবস্থানকে আরও জোরালো করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মরণসভার মূল অনুষ্ঠানে নাগাসাকির মেয়র শিরো সুজুকি তার শান্তি ঘোষণায় বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র কোনো 'প্রয়োজনীয় মন্দ' নয়, বরং এটি একটি 'পরম মন্দ' যা কখনোই মানবতার সাথে সহাবস্থান করতে পারে না। তিনি বর্তমানে বিশ্বে ১২,০০০-এরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড মজুত থাকার কথা উল্লেখ করে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো সংঘাতের বিষয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো সরাসরি জড়িত।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ০২ মিনিটে যখন মার্কিন বোমারু বিমান থেকে 'ফ্যাট ম্যান' নামের প্লুটোনিয়াম বোমাটি ফেলা হয়েছিল, সেই মুহূর্তটিকে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তার বক্তব্যে গত বৃহস্পতিবার হিরোশিমার স্মরণসভার বার্তার পুনরাবৃত্তি করে জানান, জাপান তার তিনটি পারমাণবিক নীতি—পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন, দখল বা অনুমতি না দেওয়া—অটলভাবে মেনে চলবে। তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক ধ্বংসলীলার ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করা একমাত্র দেশ হিসেবে, জাপান একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়তে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। সেই সাথে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক হামলার বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রচারের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
এই বছরের স্মরণসভাটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন জাপানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি মন্তব্য করেছিলেন যে, যেহেতু ইউরোপের কিছু দেশ পারমাণবিক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, তাই টোকিওরও এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক হামলায় বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ১,৪০,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর তিন দিন পর ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে ফেলা বোমায় আনুমানিক ৭৪,০০০ মানুষ নিহত হন। এই ঘটনার পর ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

