ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর বাংলাদেশ দলের সামনে এখন দ্বিতীয় টেস্টের নতুন চ্যালেঞ্জ। ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিতব্য এই টেস্টের আগে দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর প্রথম অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে সতীর্থদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের গ্রাফ উপরের দিকেই রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৪৫টি টেস্টের মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে ৬টি জয় এসেছে গত ১৭টি টেস্টে। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম বিদেশের মাটিতে জয় পেতে বেশ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাদের। সেই সময় পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে খেলা ৩০টি টেস্টের মধ্যে ২৮টিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ, ড্র করেছিল মাত্র দুটি।
নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইতে পাওয়া স্মরণীয় জয়ের পর ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন নাজমুল। সেই ম্যাচে আবেগের বশবর্তী হয়ে বাংলাদেশ তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল ভালোভাবেই জানেন যে, আত্মবিশ্বাস এবং অতি-আত্মবিশ্বাসের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরু থেকেই তারা এই সিরিজটিকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন এবং প্রতিটি সুযোগ উপভোগ করার চেষ্টা করছেন। প্রথম টেস্টের পর আবেগ কাজ করা স্বাভাবিক, তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে নতুন পরিস্থিতিতে বারবার মানিয়ে নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা তরুণদের সঙ্গে আবেগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করছেন বলে জানান নাজমুল। তিনি বলেন, ডারউইনের জয় এখন অতীত এবং তাদের লক্ষ্য আগামী পাঁচ দিনের ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করা। অস্ট্রেলিয়া দলের শক্তিশালী ব্যাটিং ও বোলিং আক্রমণের মোকাবিলায় প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখছেন না তারা। কন্ডিশন ও পিচ অনুযায়ী পরিকল্পনা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে নাজমুল আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশ দল এখনো অভিজ্ঞতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় তাদের ধৈর্য ধরে খেলার মানসিকতা বজায় রাখতে হবে।

