ক্রীড়া বিশ্লেষক স্টিফেন এ. স্মিথ শুক্রবার তার পডকাস্ট ‘দ্য স্টিফেন এ. স্মিথ শো’-তে ডালাস মাভরিকস তারকা কাইরি আরভিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। ২০২১ সালে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার বিষয়ে আরভিংয়ের অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন স্মিথ, যা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলেছিল। স্মিথ এখন স্বীকার করেছেন যে, আরভিংয়ের সেই সিদ্ধান্তটি একগুঁয়েমি বা স্বার্থপরতা ছিল না, বরং তা ছিল সাহসের পরিচয়।
স্মিথ ক্ষমা চাওয়ার সময় বলেন, এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের কাছে আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত, আর সেই তালিকার সবার আগে রয়েছেন কাইরি আরভিং। তিনি আরও যোগ করেন, কাইরি আরভিং কারো কোনো ক্ষতি করেননি, বরং আমরাই তার প্রতি অবিচার করেছি। স্মিথ নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রতিশ্রুতি দেন। মহামারী চলাকালীন আরভিং যখন টিকা নিতে অস্বীকার করেছিলেন, তখন নিউ ইয়র্ক সিটির টিকা ম্যান্ডেটের কারণে তাকে ব্রুকলিন নেটস দলের হোম ম্যাচগুলো মিস করতে হয়েছিল। স্মিথ তখন আরভিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
তবে সম্প্রতি ড. অ্যান্থনি ফাউচির সিনেট শুনানিতে কোভিড-১৯ এর উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠায় স্মিথ তার পূর্বের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করেন। আরভিংয়ের কাছে স্মিথের এই ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওটি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ শেয়ার করা হলে তা দ্রুতই ভাইরাল হয়। গায়িকা নিকি মিনাজ ভিডিওটি রি-পোস্ট করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করেন, "আমি কি সেখানে এক জোড়া অণ্ডকোষ দেখতে পাচ্ছি?"
এদিকে স্মিথের এই ক্ষমা চাওয়ার পর অনেকেই আরভিংয়ের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। সাবেক ডেমোক্র্যাট ভার্নন জোন্স আরভিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে এনবিএ, ব্রুকলিন নেটস এবং ড. ফাউচির প্রতি আরভিংয়ের সেই সময়ে হারানো অর্থ ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জোন্সের মতে, টিকা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে আরভিং প্রতিটি ম্যাচে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার করে হারিয়েছেন, যা সেই মৌসুমে মোট ১১ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে আরভিং নিজে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি।

