ওমানের উপকূলে আটকা পড়া একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে নির্গত অপরিশোধিত তেল এখন দেশটির মূল ভূখণ্ডের সমুদ্র সৈকতে ছড়িয়ে পড়েছে। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ট্যাঙ্কারটি থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় কেবল কাবিলিয়াহ দ্বীপের আশপাশের সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা নয়, বরং মূল ভূখণ্ডের রাস মাদরাকাহ সমুদ্র সৈকতও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই সৈকতটি কাবিলিয়াহ দ্বীপ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার (১২৫ মাইল) উত্তরে অবস্থিত।
পরিবেশ কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, তেল নিঃসরণের এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলও আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাঙ্কারের অবস্থান থেকে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি (১৮৫ মাইল) উত্তরে অবস্থিত। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক চিত্রে দেখা গেছে, শক্তিশালী বাতাস এবং মৌসুমি সমুদ্রস্রোতের কারণে এই তেল ছড়িয়ে পড়ার এলাকাটি ৬০০ বর্গকিলোমিটারেরও (২৩১ বর্গমাইল) বেশি বিস্তৃত হয়েছে।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া ২৪৭ মিটার (৮৯৯ ফুট) দীর্ঘ এই জাহাজটির নাম 'ক্যারোলিন বেজেঙ্গি'। এটি রাশিয়ার 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ছায়া নৌবহরের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজটি ব্রিটিশ সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ছিল। সিনম্যাক্স মেরিটাইম নামক ভূ-স্থানিক তথ্য ট্র্যাকিং কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি মে মাসে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক বন্দর ত্যাগ করেছিল এবং জুনে বিস্ফোরণের শিকার হওয়ার সময় এতে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল।
এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি এবং বিস্ফোরণের কারণও জানা যায়নি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আংশিক নিমজ্জিত এই ট্যাঙ্কার থেকে দ্রুত তেল ছড়িয়ে পড়ছে। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে এই নিঃসরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে, আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দেশ ওমান, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রেও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

